খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুন ২০২৬, ১১:২২ পিএম

সব ধরনের বৈষম্য দূর করে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকীকরণের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (২২ জুন) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
Table of Contents
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য চাই না। মাদ্রাসা শিক্ষাকেও মডার্নাইজ করার জন্য সেখানে আমরা কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করছি। আগামী দিনে মাদ্রাসা এবং সাধারণ শিক্ষার অভিন্ন বিষয়—বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের বোর্ডের পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্ন করা হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, দেশে যেখানে স্কুল নেই সেখানে নতুন স্কুল করা, কারিগরি শিক্ষা দেওয়া এবং মাদ্রাসাগুলোকে মডার্নাইজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় ৯টি বোর্ডের শিক্ষার্থীরা একত্রে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা দেবে, যেখানে আগে বোর্ডগুলোয় আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হতো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার জন্য ব্যাপক কাজ করছেন। তিনি শিশুদের পোশাক, দুপুরের খাবার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যেই প্রায় পাঁচ লাখ শিশুদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি। জুলাইয়ের বাজেটে সারা দেশের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জন্য পোশাক খাতে বরাদ্দ আছে।’
ছোট শিশুদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক শিশুর জন্য পোশাক, জুতা, মোজা, ব্যাগ ও বইয়ের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। পাশাপাশি স্কুলে দুপুরের খাবার (মিড ডে মিল) দেওয়ার কথা বলেছেন। শিশুদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা আমাদের সিলেবাস, কারিকুলাম ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করছি। আনন্দময় শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। শিশুদের আনন্দে শিক্ষা দেওয়ার জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি—এগুলো অন্তর্ভুক্ত করছি।’
দেশে কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেশি এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশে জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। এই জনসংখ্যা কোনো অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ। এই জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে হবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে ডিবেট ক্লাস থাকবে এবং ছাত্ররা শিখিয়ে দেবে কীভাবে একটি জাতি গঠন করতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী। স্বাগত বক্তব্য দেন সহ-উপাচার্য মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। এ ছাড়া শিক্ষকদের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদ ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে ডিন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত মারিয়া তাবাসসুম বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ১৩ জন শিক্ষক ও ২২ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষার্থীকে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর আগে সকালে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়।
মন্তব্য