খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৫:১৮ পিএম

দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আবারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৪৫ জন।
সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া চারজনই শিশু। তবে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে কোনো মৃত্যুর ঘটনা এই সময়ে নিশ্চিত করা যায়নি। তবুও হামের উপসর্গকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২৩ জন শিশুর। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ জন শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭১৬ জনে পৌঁছেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪১ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ৯৬২ জন শিশু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ৪১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১১ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৫১ জন।
চিকিৎসা ব্যবস্থার চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। এ সময়ে মোট ৮৩ হাজার ৮০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ৮০ হাজার ১৯৩ জন বাড়ি ফিরেছে।
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| সন্দেহজনক হামের মোট রোগী | ১,০০,২১১ |
| নিশ্চিত হামের রোগী | ১১,৮৫১ |
| মোট মৃত্যু (উপসর্গসহ) | ৭১৬ |
| হামের উপসর্গে মৃত্যু | ৬২৩ |
| নিশ্চিত হামে মৃত্যু | ৯৩ |
| হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগী | ৮৩,৮০৬ |
| হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রপ্রাপ্ত | ৮০,১৯৩ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত | ১,১৪৫ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ রোগী | ১,০০৪ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি | ৯৬২ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্রপ্রাপ্ত | ১,০৪১ |
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকা গ্রহণের হার কম, সেখানে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য