ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের রেশে গুলি

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কান্দিপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে—যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে মাদ্রাসা রোডের সামনে এই হামলায় তিনজন আহত হন। আহতরা হলেন টুটুল মিয়া (৪৬), শিহাব উদ্দিন সোয়েব (২৬) এবং সানজু (২২)।

ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশে টুটুলসহ কয়েকজন চা পান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একদল লোক এসে লক্ষ্যবস্তু করে গুলি ছুড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনজন ছররা গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় জনতা দ্রুত তাঁদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নূর ইবনে বিন সিফাত জানান, আহতদের মধ্যে একজনের পায়ে ২০ থেকে ২৫টি রাবার বুলেট রয়েছে। যদিও তাঁদের জীবনঝুঁকি নেই, তবে অস্ত্রোপচার লাগতে পারে। আহত টুটুল মিয়া বলেন, “আমি আগেও সাকিলের অপকর্মের প্রতিবাদ করেছি। এরই জেরে হামলা করা হয়েছে বলে আমার ধারণা।”

অভিযুক্ত সাকিল সিকদার, যিনি স্থানীয় কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, এই ঘটনায় আহত টুটুল ও শিহাব জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন (দিলীপ) গ্রুপের অনুসারী। অন্যদিকে সাকিল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের নেতৃত্ব দেয়। ফলে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, “দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারই জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা তদন্ত করছি—কে গুলি করেছে এবং কোন অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে।”

এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতির অস্থিরতা, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী গ্রুপের সংঘর্ষ এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা—সবই আবার সামনে এনে দেয়। কান্দিপাড়ার বাসিন্দারা বলছেন, তারা প্রতিদিনই আশঙ্কার মধ্যে থাকেন, কখন আবার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।