খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ৪:০ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিংসহ সার্বিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিসিবির বর্তমান নেতৃত্বের হাত ধরে দেশের ক্রিকেট ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং ব্যাটিং ইউনিট যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ব্যাটিং দুর্বলতা এবং তা কাটিয়ে উঠে সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান সংসদ সদস্য আবুল কালাম। জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো ক্রিকেট দলের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মূলত ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—এই তিন বিভাগের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে। তাই বর্তমান সরকার ও বিসিবি কেবল জাতীয় দল নয়, বরং একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে বয়সভিত্তিক দল, হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট এবং বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের কারিগরি (টেকনিক্যাল), কৌশলগত (ট্যাকটিক্যাল) ও মানসিক দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
ব্যাটসম্যানদের আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে বিসিবির নেওয়া নানা আধুনিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আমিনুল হক জানান, দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ কোচ, আধুনিক ফিজিও, ট্রেইনার ও পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিশ্লেষণ, নিয়মিত নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং সার্বক্ষণিক পারফরম্যান্স মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে মাঠে দেখা যাচ্ছে। সব ফরম্যাটেই এখন বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলছে। এর প্রমাণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তিদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। শুধু পুরুষ দলই নয়, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলও আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর বাছাইপর্বে পাকিস্তানকে হারিয়ে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ বা বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলো থেকে নিয়মিত নতুন নতুন প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান উঠে আসছেন। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে এই তরুণরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন, যা দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইনকে সমৃদ্ধ করছে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ও গ্রামীণ খেলাধুলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে আলোচনা হয়। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক স্বীকার করেন যে, হাডুডু বা কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হলেও বর্তমান প্রজন্মের আধুনিক জীবনযাত্রা ও প্রযুক্তির প্রসারের কারণে এর আগের সেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
সংসদ অধিবেশনে ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি দেশের যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করার সরকারি উদ্যোগের চিত্রও উঠে আসে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, যুবদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোগ্য যুবক ও যুবতীদের নিজেদের উদ্যোগ গড়ে তোলার জন্য সহজ শর্তে ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত যুব ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এই ঋণের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মন্তব্য