একটি রোমাঞ্চকর এবং আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ঠাসা ফুটবল ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে নেদারল্যান্ডস ও জাপান। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে চার-চারটি গোল দেখতে পান ফুটবলপ্রেমীরা। ডাচ দল পুরো ম্যাচে দুইবার লিড বা ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে জাপানি ফুটবলার দাইচি কামাদার নাটকীয় গোলে জয় হাতছাড়া হয় নেদারল্যান্ডসের এবং ২-২ গোলের সমতায় খেলাটি শেষ হয়।
খেলার প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো গোল না হলেও দুই দলের ফুটবলাররাই বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলেন। বিশেষ করে ম্যাচের ৩৪ মিনিটে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। একটি কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেড করেন ডাচ ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন। বলটি নিশ্চিত গোলের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় সেই বলটি রুখে দেন। প্রথমার্ধে সুজুকির করা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে সেরা, যা জাপানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিশেষ পরিসংখ্যান: প্রথমার্ধে ডাচ ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেনের নিশ্চিত গোলের হেড চমৎকারভাবে প্রতিহত করেন জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দুই দলের খেলার গতি ও আক্রমণাত্মক মনোভাব বৃদ্ধি পায়। ম্যাচের ৫১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা একটি চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে নেদারল্যান্ডসকে প্রথম সফলতা এনে দেন তাদের অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। বলটি গোলপোস্টে আঘাত করে জালে প্রবেশ করে। দেশের হয়ে কোনো বড় টুর্নামেন্টে এটিই ছিল এই ডাচ ডিফেন্ডারের প্রথম গোল। তবে নেদারল্যান্ডসের এই উল্লাস স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ছয় মিনিট। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে গড়া এক দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা।
ম্যাচের ৫১ থেকে ৬৪ মিনিট—এই মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে দর্শক তিনটি গোল প্রত্যক্ষ করেন। সমতা ফেরার পর নেদারল্যান্ডস পুনরায় চড়াও হয়ে খেলতে থাকে এবং ৬৪ মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের গোলে তারা ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায়।
২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। ম্যাচের শেষ দিকে তারা ডাচ রক্ষণভাগের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। রক্ষণাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে জাপানের দাইচি কামাদা গোল করে বল জালে জড়ান। ফলে জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসেও ড্রয়ের হতাশায় পুড়তে হয় নেদারল্যান্ডসকে এবং উভয় দল এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচের গোল ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণী
| সময় (মিনিট) | গোলদাতা ফুটবলার | সংশ্লিষ্ট দল | ম্যাচের তৎকালীন অবস্থা |
| ৩৪ মিনিট | ডনিয়েল মালেন (সুযোগ মিস) | নেদারল্যান্ডস | গোলশূন্য সমতা (০-০) |
| ৫১ মিনিট | ভার্জিল ফন ডাইক | নেদারল্যান্ডস | নেদারল্যান্ডস ১ – ০ জাপান |
| ৫৭ মিনিট | কেইতো নাকামুরা | জাপান | নেদারল্যান্ডস ১ – ১ জাপান |
| ৬৪ মিনিট | ক্রিসেনসিও সামারভিল | নেদারল্যান্ডস | নেদারল্যান্ডস ২ – ১ জাপান |
| ৮৯ মিনিট | দাইচি কামাদা | জাপান | নেদারল্যান্ডস ২ – ২ জাপান |
ম্যাচ শেষে দুই দলের ফুটবলাররাই মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দেওয়ার তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন, যদিও নেদারল্যান্ডসের জন্য শেষ মুহূর্তের গোল হজম করাটা ছিল বেশ কষ্টের।
