খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫২ পিএম

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আগামী শুক্রবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার সম্ভাব্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে এমন এক কর্মকর্তা থেকে, যিনি বিষয়টির প্রতি সরাসরি অবগত। যদিও সংবেদনশীলতার কারণে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন, তিনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বজায় রাখতে মিশর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় বসার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “হুমকি বন্ধ রাখলে এবং অযৌক্তিক প্রত্যাশা এড়িয়ে চললে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমতাভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদী যে, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। গত সোমবার তিনি এক বক্তব্যে বলেছেন, “যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামরিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে, যা কয়েকটি সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কারণে বিশ্ববাসীর নজর কাড়েছে।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আলোচনার বিষয় কেবল পারমাণবিক কার্যক্রমের উপর সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা করা হবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সোমবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা যদি সমান ও সুষ্ঠু ভিত্তিতে আলোচনার পথ অনুসরণ করে, তবে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।”
নিচের টেবিলে বৈঠকের মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সম্ভাব্য স্থান | আঙ্কারা, তুরস্ক |
| সম্ভাব্য সময় | আগামী শুক্রবার |
| অংশগ্রহণকারী পক্ষ | ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা |
| মধ্যস্থতাকারী দেশ | মিশর, কাতার, তুরস্ক, ওমান |
| আলোচনার মূল বিষয় | পারমাণবিক কার্যক্রম |
| আলোচনায় অগ্রহণযোগ্য বিষয় | ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা |
| ইরানের নির্দেশ | সমতাভিত্তিক ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আলোচনা করা |
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক উত্তেজনা কমানোর দিকেও পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। বিশ্ববাসী এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে শঙ্কা ও আশাবাদ মিলিয়ে প্রত্যাশা করছেন।
মন্তব্য