খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ এএম

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আপন চাচার প্রাণ গেছে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে। নিহত ব্যক্তির নাম আক্রাম মিয়া (৪৫)। তিনি উপজেলার বিষকা ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের ওসমান গণির ছেলে। রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের জব্বারের বাড়ির সামনের সড়কে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, চাচাকে ছুরিকাঘাত করার আগে ভাতিজা আলামিনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আক্রাম মিয়ার সঙ্গে তাঁর ভাতিজা আলামিনের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পৈতৃক সম্পত্তি ও সীমানা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যকার এই কোন্দল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চরম আকার ধারণ করে। নগুয়া গ্রামের এই বিরোধ মেটাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিশ-বৈঠক করেছেন। তবে কোনো পক্ষই নমনীয় না হওয়ায় দফায় দফায় চেষ্টা করেও এই দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক বিরোধের কোনো স্থায়ী নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার দিন রোববার দুপুরে চাচা আক্রাম মিয়া ভাতিজার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মোতাবেক তিনি মামলা দায়ের করার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে ময়মনসিংহ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। আক্রাম মিয়া যখন রামপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রাম সংলগ্ন জব্বারের বাড়ির সামনে পৌঁছান, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা ভাতিজা আলামিন তাঁর পথরোধ করেন। আলামিনের সঙ্গে সে সময় আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল বলে জানা গেছে। তারা চলন্ত মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে আক্রাম মিয়াকে থামতে বাধ্য করে।
মোটরসাইকেল থামানোর পর রাস্তায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। পুলিশ জানায়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ আক্রাম মিয়া নিজের কাছে থাকা একটি হাতুড়ি দিয়ে ভাতিজা আলামিনকে লক্ষ্য করে আঘাত করেন। হাতুড়ির এই আকস্মিক আঘাতে আলামিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজের কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলামিন তাঁর আপন চাচা আক্রাম মিয়ার বুকের পাশে সজোরে ছুরিকাঘাত করেন। ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই আক্রাম মিয়ার মৃত্যু হয়।
নির্জন সড়কের ওপর এই রক্তাক্ত কাণ্ড ঘটিয়ে অভিযুক্ত আলামিন ও তার সহযোগীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার ওপর আক্রাম মিয়ার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারাকান্দা থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রাশিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পৈতৃক জমির বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর পরই মূল অভিযুক্ত আলামিনসহ জড়িত বাকিরা আত্মগোপন করেছে। অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে এবং বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
মন্তব্য