মাটি কাটার বিরোধে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বসতঘরের সামনে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় হানিফ মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গাছিরহাট গ্রামের পাটোয়ারীরপুল এলাকার হালিম দারোগার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হানিফ মিয়া ওই এলাকার মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে কৃষি শ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ, নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে হানিফ মিয়া তার বসতঘরের সামনের অংশে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। এ সময় একই বাড়ির বাসিন্দা আবদুল বারেক (৬০) সেখানে এসে আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে হানিফ মিয়া কয়েক দফা কিল-ঘুসির আঘাত পান। ঘটনার এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অবস্থার অবনতি হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।

হানিফ মিয়ার মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কারও কাম্য নয়।

নিহতের ছেলে মো. রিপন অভিযোগ করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে আবদুল বারেকের পূর্ব থেকে কোনো জমিজমা বা অন্য কোনো বিরোধ ছিল না। তার দাবি, মাটি কাটার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি অকারণে গালাগালি শুরু করেন এবং পরে তার বাবার ওপর শারীরিক হামলা চালান। তিনি বলেন, ওই হামলার ফলেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত আবদুল বারেক এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি প্রতিবেশী পর্যায়ের বিরোধ থেকে সংঘটিত ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
নিহতের নামহানিফ মিয়া (৭০)
পেশাকৃষি শ্রমিক
ঘটনার স্থানপাটোয়ারীরপুল এলাকা, গাছিরহাট গ্রাম, চরপাতা ইউনিয়ন, রায়পুর
ঘটনার সময়রোববার সকাল
ঘটনার কারণবসতঘরের সামনে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধ
অভিযুক্তআবদুল বারেক (৬০)
বর্তমান অবস্থাঅভিযুক্ত পলাতক
হাসপাতালে নেওয়া হয়রায়পুর সরকারি হাসপাতাল
চিকিৎসকের সিদ্ধান্তহাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা
পুলিশের পদক্ষেপতদন্ত শুরু, অভিযুক্তকে খোঁজা হচ্ছে
পরিবারের দাবিহত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি
পরবর্তী ধাপময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা

স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায় রূপ নেয় এবং তার পরিণতি হয়ে দাঁড়ায় প্রাণহানি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রতিবেশী বা পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে উত্তেজনায় জড়িয়ে না পড়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা কিংবা প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। এ ঘটনায়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।