বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে সম্প্রতি অব্যাহতি প্রদান করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই অব্যাহতিকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া কৌতূহল ও বিভিন্ন মহলে চলমান আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পিবিআই এর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণসমূহ ব্যাখ্যা করেছে। সংস্থাটির দাবি, মামলার এজাহারে উল্লেখিত তথ্য এবং ভিকটিমের অস্তিত্ব নিয়ে চরম অসংগতি পাওয়ায় তারা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
তদন্তে উদ্ঘাটিত গুরুতর অসংগতিসমূহ
পিবিআই-এর ভাষ্যমতে, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে শরিফ নামক এক ব্যক্তি ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে দাবি করা হয়েছিল যে, ৪ আগস্ট ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় তার ছোট ভাই সাহেদ আলী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, মামলার পুরো ভিত্তিটিই ছিল সাজানো ও ত্রুটিপূর্ণ। তদন্তে পাওয়া প্রধান অসংগতিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
অস্তিত্বহীন ভিকটিম: এজাহারে উল্লেখিত ঠিকানায় সাহেদ আলী নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি বাদীর দেওয়া নিজ ঠিকানাতেও তাঁর অস্তিত্ব মেলেনি।
ভুয়া পরিচয়পত্র: তদন্তে দেখা গেছে, ভিকটিমের নামে এজাহারে জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর বিপরীতে কোনো নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর নেই।
মিথ্যা আত্মীয়তা: বাদী ও তথাকথিত ভিকটিম সাহেদ আলীর মধ্যে ভাই হিসেবে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
অকাল্পনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান: সাহেদ আলীর কর্মস্থল হিসেবে ‘সীমান্ত স্কয়ার’-এর নাম উল্লেখ করা হলেও মার্কেট কমিটি লিখিতভাবে জানিয়েছে যে এই নামে কোনো ব্যবসায়ী বা কর্মচারী সেখানে কাজ করেন না।
মামলার বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান
পিবিআই জানিয়েছে যে, তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ভিত্তিহীন মামলায় অব্যাহতি প্রদান করা হলেও প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিচের সারণিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান তদন্ত চিত্র দেওয়া হলো:
| মামলার ধরন | মোট সংখ্যা | বর্তমান অবস্থা |
| জিআর (GR) মামলা | ১৭টি | অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট দাখিল। |
| সিআর (CR) মামলা | ৬৭টি | অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন জমা। |
| বিতর্কিত ধানমন্ডি মামলা | ০১টি | অসংগতির কারণে ১১৩ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ। |
আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আরও ১১১ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আবুল বাশার জানান, পিবিআই সম্প্রতি এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত পিবিআই-এর দেওয়া এই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
পিবিআই সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং হয়রানিমূলক মামলা রোধে তারা বদ্ধপরিকর। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সুনির্দিষ্ট ঠিকানার অভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় আইনি নিয়ম মেনেই এই অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
