খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ৭:১৩ পিএম

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী মঙ্গলবার বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে সোনাতলা উপজেলার সাতবেকী গ্রামের সাদিক বেপারী (২৫) এবং সহযোগী হিসেবে একই গ্রামের ঋাতু মিয়া (২৩) ও হাঁসরাজ গ্রামের হিরু মিয়া (৩০)–এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনোয়ারুল ইসলাম মামলাটি গ্রহণের জন্য সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী নাহিদ পারভেজ জনি। তবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত আদালতের ওই নির্দেশনা হাতে পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন সোনাতলা থানার ওসি কবির হোসেন। তিনি বলেছেন, নির্দেশনা পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। তার দুই সন্তান রয়েছে। ২০২৩ সালের ১৩ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বগুড়া সদরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে সোনাতলায় বোনের বাড়িতে যাতায়াতের সূত্রে প্রধান আসামি সাদিক বেপারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
বাদীর অভিযোগ, সাদিক বিভিন্ন সময়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। শুরুতে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেও পরে মোবাইল ফোন ও ইমো অ্যাপের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে সাদিক তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই সাদিক ফোন করে ওই নারীকে সোনাতলার চরপাড়া বাসস্ট্যান্ডে যেতে বলেন। সেদিনই তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে যাওয়ার পর সাদিকের সঙ্গে ঋাতু মিয়া ও হিরু মিয়াও ছিলেন। তারা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই নারীকে নিয়ে সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন। পরে কাজি আসবেন বলে তাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাদীর অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সেখানে কোনো কাজি আসেননি। একপর্যায়ে ঋাতু ও হিরু ওই স্থান থেকে চলে যান। এরপর সাদিক তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। এ সময় অন্য দুই আসামি সাদিককে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা ওই নারীকে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় যাওয়ার পরও তার মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এরপর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নাহিদ পারভেজ জনি বলেন, আদালত বাদীর বক্তব্য শুনে মঙ্গলবার মামলাটি গ্রহণের জন্য সোনাতলা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, সোনাতলা থানার ওসি কবির হোসেন বুধবার বিকেলে বলেন, আদালতের নির্দেশনার কোনো কপি তখনও থানায় পৌঁছায়নি। নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পর মামলাটি রেকর্ড করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলাটি এখন তদন্তের পর্যায়ে যাওয়ার কথা। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে তিন আসামির প্রত্যেকের ভূমিকা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ভর করবে।
মন্তব্য