প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে জানুয়ারির কনকনে শীত এখন সারা দেশের মানুষের হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে কুয়াশার ঘন চট আর উত্তুরে হাওয়ার দাপটে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সোমবার আবহাওয়ার সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের অন্তত চারটি থেকে পাঁচটি বিভাগে তাপমাত্রার পারদ নাটকীয়ভাবে ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে আসতে পারে। এই আকস্মিক পতনের ফলে মঙ্গলবার সারা দেশে হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হবে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা নামার পর থেকেই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে। এই মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে সূর্যের তেজ পৌঁছাতে বেশ বিলম্ব হবে। অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ খুলনা ও বরিশাল বিভাগে সকাল দশটার দিকে কিছুটা রোদের দেখা মিললেও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের প্রকোপ কমবে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, জানুয়ারি মাসের এই শৈত্যপ্রবাহ কেবল শুরু। অধিদপ্তরের বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, চলতি মাসে একাধিক তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে। কোনো কোনো দুর্গম এলাকায় তাপমাত্রার সর্বনিম্ন রেকর্ড ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও ঠেকতে পারে। কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার এই দাপট অন্তত ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষি ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
নিচে আগামী কয়েকদিনের সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতি ও বিভাগীয় তাপমাত্রার একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:
আবহাওয়া ও সম্ভাব্য তাপমাত্রা বিশ্লেষণ সারণি
| বিভাগের নাম | সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সীমা | কুয়াশার তীব্রতা ও সম্ভাব্য প্রভাব |
| রংপুর | ৫° – ৭° সেলসিয়াস | অতি ঘন কুয়াশা; দৃষ্টিসীমা ৫০ মিটারের নিচে নামতে পারে |
| রাজশাহী | ৫° – ৭° সেলসিয়াস | তীব্র শীত ও দুপুর পর্যন্ত সূর্যালোকের অভাব |
| ঢাকা | ৭° – ৯° সেলসিয়াস | কুয়াশার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ও কনকনে ঠান্ডা |
| খুলনা | ৬° – ৮° সেলসিয়াস | ভোরের দিকে তীব্র শীত, বেলা বাড়লে সামান্য রোদ |
| ময়মনসিংহ | ৬° – ৮° সেলসিয়াস | সারাদিন হিমেল হাওয়া ও মেঘলা আকাশ থাকতে পারে |
| চট্টগ্রাম ও সিলেট | ১০° – ১৩° সেলসিয়াস | পাহাড়ি এলাকায় তুলনামূলক বেশি ঠান্ডা অনুভূত হবে |
শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শীতকালীন রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হাপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদরোগীদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। নিম্নবিত্ত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই প্রতিকূল সময়ে অপ্রয়োজনে ভোরে বাইরে না যাওয়া এবং পর্যাপ্ত কুসুম গরম পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
