সুন্দরবনের উপকূলীয় ও বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ডাকাতদল ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ উপকূলরক্ষী বাহিনী। এই ঘটনায় সুন্দরবন এলাকায় জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ উপকূলরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুন্দরবনে ডাকাতি, অপহরণ ও চাঁদাবাজি দমনে চলমান বিশেষ অভিযানগুলোর অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সোমবার গভীর রাতে শিবসা নদীর আদাচাই বনফাঁড়ি সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটকের সময় তার কাছ থেকে দুইটি একনলা বন্দুক এবং পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে বনাঞ্চলের ভেতরে আরও তল্লাশি চালানো হলেও নতুন কোনো অস্ত্র বা সহযোগী পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক মো. জাহিদুল ইসলাম (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ১৩ সদস্যের একটি সশস্ত্র দল পরিচালনা করে আসছিলেন। এই দলটি সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীপথে মাছ ধরা ও বনজীবী পেশায় নিয়োজিত মানুষের উপর হামলা চালিয়ে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায় করত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিয়মিতভাবে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনাও ঘটত।
উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ দুটি অভিযান একযোগে চলছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে বনদস্যুদের সম্পূর্ণ নির্মূল করা এবং উপকূলীয় জনজীবন স্বাভাবিক রাখা। এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় মেজ জাহাঙ্গীরকে আটক করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় জেলে ও বনজীবীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনীর আতঙ্কে তারা নিরাপদে কাজ করতে পারছিলেন না। অনেক সময় নৌকা ও মাছ ধরা সরঞ্জামও ডাকাতদের হাতে হারাতে হয়েছে। ফলে জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছিল।
আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে খুলনা জেলার দাকোপ থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, অপহরণ এবং চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিম্নে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানের স্থান | শিবসা নদী, কালীর খাল এলাকা |
| সময় | সোমবার গভীর রাত |
| আটক ব্যক্তি | মো. জাহিদুল ইসলাম (মেজ জাহাঙ্গীর) |
| বয়স | ৫৬ বছর |
| সংগঠন | মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী |
| সদস্য সংখ্যা | ১৩ জন (জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার) |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র | ২টি একনলা বন্দুক |
| উদ্ধারকৃত গোলাবারুদ | ৫ রাউন্ড তাজা গুলি |
| অভিযোগ | অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি |
উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
