খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ৪:২০ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে একই বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী একসঙ্গে নিখোঁজ হয়েছে। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা বাড়ি ফিরে আসেনি। এই ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
নিখোঁজ হওয়া চার কিশোরীই একই গ্রামের বাসিন্দা এবং তারা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিখোঁজদের মধ্যে তিনজন দশম শ্রেণিতে এবং একজন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিনের মতোই তারা মঙ্গলবার সকালে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু দুপুরের পরও তারা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান করেও তাদের কোনো হদিস মেলেনি।
অবস্থা বেগতিক দেখে গতকাল মঙ্গলবার রাতেই চার কিশোরীর অভিভাবকেরা বালিয়াডাঙ্গী থানায় গিয়ে পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
এরই মধ্যে আজ বুধবার সকালে একটি রহস্যময় ফোনালাপ পরিবারকে নতুন চিন্তায় ফেলেছে। নিখোঁজ এক কিশোরী তার বাবার মুঠোফোনে কল দেয়। সে সময় ওপাশ থেকে কিশোরীটি জানায় যে, তারা সবাই যেখানে আছে, ভালো আছে। কিন্তু তারা ঠিক কোথায় অবস্থান করছে, তা স্পষ্ট করার আগেই ফোনটি কেটে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেই মুঠোফোন নম্বরটি অনবরত বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তারা স্বেচ্ছায় কোথাও গেছে, নাকি কোনো চক্রের খপ্পরে পড়েছে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজদের স্বজনেরাও এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।
কিশোরীদের স্বজনেরা চরম মানসিক যাতনার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। নিখোঁজ এক কিশোরীর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়েরা কোথায় আছে, কী খাচ্ছে বা কী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, তার কিছুই তাঁরা জানেন না। এই অনিশ্চয়তা তাঁদের পাগলপ্রায় করে তুলেছে। আরেক ছাত্রীর মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, মেয়েদের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছে, তা তাঁরা অনুমানও করতে পারছেন না। প্রশাসনের কাছে তাঁদের একটাই আকুতি, যেন মেয়েদের দ্রুত অক্ষত অবস্থায় বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মাঠে নেমেছে। মেয়েদের অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার পাশাপাশি সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনা করে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে এবং খুব দ্রুতই চার ছাত্রীকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মন্তব্য