দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তিসহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভর্তিকৃত ও অধ্যয়নরত যোগ্য শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবে।
বৃহস্পতিবার থেকে এই সহায়তার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত তা চলবে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত ব্যবস্থায় আবেদন করতে পারবে। আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে, ফলে কোনো কাগজপত্র ডাকযোগে বা সরাসরি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
Table of Contents
যোগ্যতা ও শর্তাবলি
ভর্তিসহায়তা পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পূর্ববর্তী শ্রেণিতে ন্যূনতম শতকরা ৬০ শতাংশ নম্বর অর্জন করা অথবা জিপিএ ৫ পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৩.৫০ অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর পিতা, মাতা বা আইনগত অভিভাবকের বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা বা তার কম হতে হবে।
আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করতে হবে। বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সনদও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন সনদ, পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, শিক্ষার্থীর ছবি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্টভাবে আপলোড করতে হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সনদপত্র সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
নিম্নে শর্তাবলি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | পূর্ববর্তী শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ ৩.৫০ |
| পারিবারিক আয় | বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা |
| আবেদন পদ্ধতি | নির্ধারিত ব্যবস্থায় সম্পূর্ণভাবে অনলাইন আবেদন |
| জন্মনিবন্ধন | বাধ্যতামূলক |
| পিতা-মাতার পরিচয়পত্র | জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি প্রয়োজন |
| ব্যাংক তথ্য | অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য |
| ছবি | সাম্প্রতিক তোলা ছবি |
| বিশেষ সনদ | এতিম, প্রতিবন্ধী, দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বা সরকারি কর্মচারীর সন্তানদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সনদ |
বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীরা
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতিম, প্রতিবন্ধী, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বা অভিভাবক, অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং সরকারি কর্মচারীদের নির্দিষ্ট গ্রেডের সন্তানদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে। হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।
এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হবে।
সহায়তা ও তথ্যসেবা
আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা সহায়তার জন্য অফিস সময়ের মধ্যে নির্ধারিত হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হবে এবং শিক্ষায় অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে।
