খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম

মাঠে অসাধারণ গতি, দুর্দান্ত ড্রিবলিং এবং গোল করার দক্ষতার জন্য ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকা। তবে এবার তাঁর নাম উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। ফুটবলীয় পারফরম্যান্সের বাইরে নিজের চেহারায় পরিবর্তন এনে নতুন লুকে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড।
সম্প্রতি মুখমণ্ডলের গঠনে পরিবর্তন আনতে নান্দনিক চিকিৎসা নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। জানা গেছে, তিনি ‘চিন হারমোনাইজেশন’ নামে পরিচিত একটি প্রসাধনী চিকিৎসা করিয়েছেন। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো মুখের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করে থুতনি ও চোয়ালের আকৃতি আরও সুষম ও আকর্ষণীয় করে তোলা।
ভিনিসিয়ুসের ক্ষেত্রে চিকিৎসাটি অস্ত্রোপচারনির্ভর ছিল না। ফিলার ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁর থুতনি ও চোয়ালের গঠনে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসার পর তাঁর মুখের নিচের অংশের আকৃতিতে যে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন চেহারার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নানা ধরনের মন্তব্য আসতে থাকে। কেউ তাঁর নতুন লুকের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ মজা করে বলেছেন, চেহারায় পরিবর্তনের পর তাঁকে ব্রাজিল ও চেলসির সাবেক মিডফিল্ডার রামিরেসের মতো দেখতে লাগছে। বিষয়টি নিছক ভক্তদের রসিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। সেই তুলনায় নিজেও যোগ দিয়েছেন রামিরেস, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
জানা গেছে, ব্রাজিলের গইয়ানিয়ার একটি ক্লিনিকে ভিনিসিয়ুসের এই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। তবে চিকিৎসাটি পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিভিত্তিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আলেসান্দ্রো আলারকাও। তাঁকে বিশেষভাবে ব্রাজিলে নিয়ে এসে ভিনিসিয়ুসের চিকিৎসা করানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। নান্দনিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যক্তির মুখের গঠন অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবর্তন আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফিলারভিত্তিক চিকিৎসায় সাধারণত অস্ত্রোপচারের তুলনায় পুনরুদ্ধারের সময় কম হতে পারে, যদিও এর ফলাফল ব্যক্তি ও ব্যবহৃত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে।
ভিনিসিয়ুসের জন্য সময়টিও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই তিনি এই নান্দনিক চিকিৎসা নেন। টুর্নামেন্টে ব্রাজিল প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি এবং শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয়। তবে দলের হতাশাজনক ফলের মধ্যেও ভিনিসিয়ুস ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন উজ্জ্বল। পাঁচ ম্যাচে চার গোল ও একটি সহায়তা করে তিনি দলের অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বিশ্বকাপের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে এখন ক্লাব ফুটবলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভিনিসিয়ুস। স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর এক বছর রয়েছে। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে। তবে ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এরই মধ্যে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর গতি, একের পর এক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে প্রভাব রাখার ক্ষমতা তাঁকে দলের অন্যতম প্রধান তারকায় পরিণত করেছে। তাই মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও চেহারার পরিবর্তনও যে ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক।
নতুন লুক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যতই আলোচনা হোক, ভিনিসিয়ুসের সামনে এখন মূল লক্ষ্য আবারও মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়া। বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে ক্লাব মৌসুমে নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখা এবং রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করা—দুই দিকেই এখন নজর থাকবে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার।
মন্তব্য