গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার অন্তর্গত মরকুন পূর্বপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সাততলা ভবন থেকে ফারুক হোসেন নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি ওই ভবনের একাংশের মালিক ছিলেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত ফারুক হোসেন ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার দক্ষিণ ধর্মপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন পূর্বপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন এবং পারিবারিক মালিকানাধীন ওই নির্মাণাধীন ভবনের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরকুন পূর্বপাড়া গুদারাঘাট এলাকার বায়তুল্লাহ জামে মসজিদের সামনে অবস্থিত সাততলা ভবনটি শাহাবুদ্দিনের পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন। নিহত ফারুক ওই পাঁচ ভাইয়ের একজন ছিলেন। তিনি নিয়মিতভাবে ভবনের নিচতলায় অবস্থান করে নির্মাণকাজ তদারকি করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় ভবনের ছয়তলায় লিফট স্থাপনের জন্য নির্মিত অংশের সঙ্গে নাইলনের রশি দিয়ে তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে, তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। নিহতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, ফারুক হোসেন ছিলেন শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাক্রমের সময়রেখা
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| বুধবার রাত সাড়ে ৯টা | ফারুক হোসেনকে শেষবার ভবনের আশপাশে দেখা যায় |
| মধ্যরাত থেকে ভোর | ভবনের ছয়তলায় লিফট ওয়ালের কাছে ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা |
| বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টা | ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা |
| সকাল | পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে |
| পরবর্তীতে | ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয় |
টঙ্গী পূর্ব থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পারিবারিক সদস্য, শ্রমিক ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া ভবনের নির্মাণ কার্যক্রম ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা বিশ্লেষণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
