চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর জনসংযোগে গুলি, নিহত ১ আহত ৫

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলি চালিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছেন প্রার্থীসহ পাঁচজন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী পূর্ব মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন বাবলা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তিনি সম্প্রতি নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবি করলেও দলটি জানিয়েছে, বাবলা তাদের কেউ নন। শতাধিক লোকজন তখন জনসংযোগে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির কয়েক নেতা অভিযোগ করেছেন, এ হামলার জন্য জামায়াত দায়ী। তবে জামায়াত অভিযোগ অস্বীকার করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও হামলার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশের ধারণা, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী সাজ্জাদের প্রতিপক্ষ সরওয়ারকে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে আছেন ইরফানুল হক শান্ত, আমিনুল ও মর্তুজা হক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়—এরশাদ উল্লাহ প্রচারণায় থাকার সময় এক যুবক ভিড়ের মধ্যে ঢুকে সরওয়ারের ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে; পরে পরপর আরও কয়েকটি গুলি ছোড়া হয়।

পুলিশ জানায়, এরশাদ উল্লাহ পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সরওয়ার হোসেন বাবলা হাসপাতালে মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পর বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করে দাবি করে এই হামলার পেছনে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হামলার উদ্দেশ্য জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা।

জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, সরওয়ার ছিলেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং প্রতিপক্ষই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

টিএসএন