চট্টগ্রাম নগরে একাদশ শ্রেণির ছাত্র আশফাক কবির সজিদকে মারধরের পর নির্মাণাধীন ভবনের আটতলা থেকে নিচে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার রাতে চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিক নামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার গত মঙ্গলবার চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত আশফাক কবির সজিদ চট্টগ্রাম নগরের বিমানবাহিনী শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়। তিনি নগরের বাকলিয়া ডিসি রোড কবরস্থান সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার পরিচিত ফারদিন হাসান মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিক মোড়ে ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছালে একদল তরুণ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে ঘিরে ধরে। অভিযুক্তদের মধ্যে আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ আরও কয়েকজন ছিল বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে আশফাক দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করেন এবং ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি ভবনের উপরতলায় উঠে যান এবং আটতলায় আশ্রয় নেন। তবে হামলাকারীরা গেটের কাছে গিয়ে জোরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
এরপর হামলাকারীরা ভবনের বিভিন্ন তলায় উঠে আশফাককে খুঁজে বের করে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে আটতলা থেকে নিচে লিফটের জন্য তৈরি ফাঁকা স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট বিরোধের কারণে ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক বা সংগঠিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। কেন তাকে এমনভাবে হত্যা করা হলো, তা দ্রুত উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।
মামলায় উল্লিখিত অভিযুক্তদের তথ্য
| নাম | অভিযোগিত ভূমিকা |
|---|---|
| ফারদিন হাসান | মুঠোফোনে ডেকে আনার অভিযোগ |
| আইমন | দলবদ্ধভাবে অবস্থান ও ভয় প্রদর্শন |
| অনিক | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ |
| রানা মাইকেল | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ |
| ইলিয়াস | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ |
| এনায়েত উল্লাহ | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ |
| মিসকাতুল কায়েস | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ |
| এনামুল হক | নিরাপত্তাকর্মী, গেট খোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার |
ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা ও জড়িতদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
