বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমার থেকে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ছেচল্লিশ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি বিদেশি পিস্তল এবং পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলাবর্ষণ বা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এই দুর্গম অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক ও অস্ত্রের চালান প্রবেশ রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার রাতে সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বড় ধরনের ইয়াবা ও অস্ত্রের চালান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সার্বিক নির্দেশনায় এবং উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান আশিকের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘুমধুম ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকে।
অভিযানের বিবরণ দিয়ে বিজিবি জানায়, গভীর রাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ৩১ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ১৩০ গজ অভ্যন্তরে নয়াপাড়া এলাকায় সন্দেহজনক কিছু মানুষের গতিবিধি লক্ষ্য করেন টহলরত বিজিবি সদস্যরা। সীমান্তরক্ষী বাহিনী দ্রুত তাদের চ্যালেঞ্জ করলে এবং কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করলে অন্ধকার ও দুর্গম ভৌগোলিক সুযোগের সদ্ব্যবহার করে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। পরে অপরাধীদের ফেলে যাওয়া বস্তা ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্যাগভর্তি ইয়াবা, একটি আধুনিক বিদেশি অস্ত্র এবং পাঁচ রাউন্ড কার্যকর গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে বিজিবির ধারণা, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে এই অবৈধ চালানটি দেশের অভ্যন্তরে এনে পরবর্তীতে বিভিন্ন বড় শহরে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের। অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের গ্রেফতারে এখন গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সফল অভিযান প্রসঙ্গে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ গ্রাস থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক কারবারি, চোরাকারবারি এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সাড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবা আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য