গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন নিহত

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে তাদের মরদেহ নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দলদলা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৩ বছর বয়সী মিম আক্তার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গত ১১ জুন ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে ১২ জুন সুলতানা বেগম মারা যান। এরপর সোমবার ভোরে আব্দুল মান্নান এবং একই দিন সকাল ১০টার দিকে তাদের ছেলে সিয়ামের মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুলতানা বেগমের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ, সিয়ামের ৭৭ শতাংশ এবং আব্দুল মান্নানের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সী মিম আক্তারের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, জীবিকার প্রয়োজনে সবজি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। সোমবার রাতে তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, ১১ জুন ভোরে ভাড়া বাসার ভেতরে দীর্ঘ সময় গ্যাস জমে থাকার কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, এলপিজি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে ঘরের ভেতরে জমা হয়েছিল। রান্নাঘরে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরিবারের সদস্যরা গুরুতর দগ্ধ হন।

একই ঘটনায় প্রতিবেশী একটি শিশু, হযরত আলী, দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

দগ্ধদের অবস্থা (সংক্ষিপ্ত তথ্য)

নামদগ্ধের পরিমাণবর্তমান অবস্থা
সুলতানা বেগম৯০%মৃত্যুবরণ
আব্দুল মান্নান৩৫%মৃত্যুবরণ
সিয়াম৭৭%মৃত্যুবরণ
মিম আক্তার (১৩)৪১%আইসিইউতে সংকটাপন্ন
হযরত আলীউল্লেখ নেইচিকিৎসাধীন

দাফন কার্যক্রম চলাকালে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার দলদলা গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করে। এলাকাবাসীর মধ্যে এই দুর্ঘটনা নিয়ে গভীর শোক ও আলোচনা দেখা যায়।