চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে টানা বিদ্যুৎহীনতায় ১৩০ গ্রাম বিপর্যয়

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন ১৩০টি গ্রাম টানা প্রায় ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ওপর বাঁশ ও গাছপালা ভেঙে পড়ে। এতে একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায় এবং কয়েকটি স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। ফলে সন্ধ্যা ৬টার পর থেকেই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন জানান, ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে দ্রুত মেরামত কাজ চালানো হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দল কাজ করছে।

বিদ্যুৎহীন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থী ও সাধারণ বাসিন্দারা। উপজেলা সদরের দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে তাদের চরম অস্বস্তিতে সময় কাটাতে হয়েছে। এ পরিস্থিতি তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলছে।

কলাদী এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরবাড়িতে পাখা বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে গরমে বসবাস করা কঠিন হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে পানির পাম্প চালানো সম্ভব না হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দেয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়কাল, কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময়রোববার সন্ধ্যা ৬টা
বিদ্যুৎ পুনরায় চালুর সর্বশেষ সময় (প্রতিবেদন পর্যন্ত)সোমবার দুপুর ১২টা
মোট সময়কালপ্রায় ১৮ ঘণ্টা
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম১৩০টি
মোট ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যাপ্রায় ৭৪ হাজার
প্রধান কারণকালবৈশাখী ঝড়ে ৩৩ কেভি লাইনে গাছ ও বাঁশ পড়ে যাওয়া
অবকাঠামোগত ক্ষতিএকাধিক খুঁটি ভাঙা, তার ছিঁড়ে যাওয়া

উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানীয় জল, শিক্ষা কার্যক্রম এবং গৃহস্থালির কাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনজীবনে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটে।