খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুন ২০২৬, ৪:৬ পিএম

ঢাকার রামপুরা এলাকায় সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন অপরাধজগতে ‘কাইল্যা পলাশ’ নামে পরিচিত ইয়াছিন খান পলাশ। একসময় পুলিশের করা শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় থাকা এই ব্যক্তির বয়স ছিল ৫০ বছর। তিনি একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন এবং প্রায় এক মাস আগে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পলাশের মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ১২ জুন। ওই দিন দুপুর প্রায় পৌনে ২টার দিকে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের বিপরীত পাশে নিজের বাসার কাছাকাছি এলাকায় হামলার শিকার হন পলাশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হামলায় তার মাথায় দুটি গুলি লাগে, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পলাশের ওপর হামলার ঘটনায় তার স্ত্রী মাহমুদা খানম হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসান আহমেদ মন্টিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইমাম হোসেন ও মারুফ সুলতান। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারে তাদের নাম না থাকলেও তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন ইমাম হোসেন। অন্যদিকে মারুফ সুলতানকে ঘটনাস্থলসংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় আটক করা হয়।
| ক্রম | নাম |
|---|---|
| ১ | জিসান আহমেদ মন্টি |
| ২ | বাদশা ওরফে গুজা বাদশা |
| ৩ | গলদা বাদশা |
| ৪ | শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত |
| ৫ | সোলাইমান খন্দকার |
| ৬ | ফারুক ওরফে চাচা ফারুক |
| ৭ | হেবেল |
| ৮ | মোল্লা জনি |
| ৯ | ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা |
| ১০ | পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন |
| ১১ | সজীব |
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আহত হওয়ার তারিখ | ১২ জুন |
| স্থান | রামপুরা, ঢাকা |
| হামলার ধরন | মোটরসাইকেলে এসে গুলি |
| গুলির সংখ্যা | মাথায় দুটি গুলি |
| প্রথম চিকিৎসা | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| পরবর্তী চিকিৎসা | এভারকেয়ার হাসপাতাল |
| মৃত্যুর সময় | শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা |
| তদন্তকারী থানা | হাতিরঝিল থানা |
ইয়াছিন খান পলাশ যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলার দণ্ডিত আসামি ছিলেন। ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরা এলাকায় মিজানুর রহমান মিজানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় বিচারিক আদালত পলাশকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালত তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করেন। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর তিনি প্রায় এক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান।
পলাশের মৃত্যুর পর তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি হত্যাচেষ্টা থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, এই সংবাদে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী হামলার পেছনের উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
মন্তব্য