জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৫৪ পিএম

ঢাকার গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় বৈঠক করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যশোরের ছয় নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের পুলিশ প্লাজার পঞ্চম তলায় অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী, সংগঠনটির সদস্য এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নান্নু মিয়া, ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিনুর রহমান পলাশ, আওয়ামী লীগের কর্মী সজল আহমেদ এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম হোসেন।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাউদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্যের পর পুলিশ রেস্তোরাঁটিতে অভিযান চালায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠক শেষে রাজধানীতে একটি মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আটক ছয়জনের সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই রেস্তোরাঁয় উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর চৌগাছা উপজেলা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।
বৈঠক চলাকালে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী দ্রুত রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, গোপন বৈঠকের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে যান। বৈঠক শেষে রাজধানীতে মিছিল করার পরিকল্পনার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
আটক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নেতারাও রয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাও আছেন। ফলে বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কী উদ্দেশ্যে কমিটি গঠনের আলোচনা হচ্ছিল এবং মিছিলের পরিকল্পনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং তাঁদের সংশ্লিষ্টতা পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য