খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুন ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন এবং তার বড় ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে রোববার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে।
নিহত ছাত্র রুমন (১৮) গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত হয়েছেন তার বড় ভাই রুহিত (২০)। তারা উভয়ই গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের ছানা হাজির ছেলে রাকিবের সঙ্গে মৃত ফারুকের ছেলে রুহিতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর তা চূড়ান্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রাকিব ধারালো ছুরি দিয়ে রুহিতকে আঘাত করে। এ সময় ছোট ভাই রুমন এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানা যায়। হামলার পরপরই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন আহত দুই ভাইকে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহিত বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর সোমবার সকালে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাকিবের মা বেবি বেগম এবং তার স্ত্রী ইতি বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নজরদারি জোরদার করেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | পূর্ব পিয়ারাপুর, গাইবান্ধা সদর |
| সময় | রোববার রাত প্রায় সাড়ে ৯টা |
| নিহত | রুমন (১৮), কলেজছাত্র |
| আহত | রুহিত (২০) |
| কারণ | জমি সীমানা নিয়ে বিরোধ |
| অভিযুক্ত | রাকিব |
| আটক | বেবি বেগম, ইতি বেগম |
| মরদেহের অবস্থা | ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ |
ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য