কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেশের রিজার্ভের ঊর্ধ্বমুখী চিত্র

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা সঞ্চয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ পূর্ববর্তী রেকর্ডের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩৪ হাজার ৮২১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা বিলিয়ন ডলারের হিসাবে প্রায় ৩৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক অফিশিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩ জুন, বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমের কাছে রিজার্ভের এই সর্বশেষ হালনাগাদ ও ইতিবাচক পরিসংখ্যানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও রিজার্ভের হিসাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংগৃহীত ও প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য-уপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ৩ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ হাজার ৮২১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে এসে পৌঁছেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব পদ্ধতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুযায়ীও রিজার্ভের আরেকটি হিসাব বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত ‘ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল’ বা বিপিএম-৬ (BPM-6) পদ্ধতি অনুসরণ করে হিসাব করায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৬০ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আর্থিক খাতের আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বজায় রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত এই দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করে থাকে।

পূর্ববর্তী রেকর্ডের সাথে বর্তমান রিজার্ভের তুলনামূলক চিত্র

চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ড অনুযায়ী, এর আগে গত ১ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ১০৭ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিগত ১ জুনের তুলনায় ৩ জুনের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান মূল্যায়ন করলে স্পষ্ট দেখা যায় যে, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশের গ্রস রিজার্ভ এবং বিপিএম-৬ উভয় পদ্ধতিতেই বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫৪.৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫২.৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিপিএম-৬ পদ্ধতি এবং নিট রিজার্ভের গাণিতিক পরিমাপ

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের সঠিক চিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ পদ্ধতিটি বিশ্বজুড়ে অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও এই নিয়ম মেনে তাদের নিট রিজার্ভের হিসাব পরিচালনা করছে।

হিসাব প্রক্রিয়া: এই আন্তর্জাতিক আর্থিক নিয়মনীতি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে থাকা মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ থেকে সমস্ত স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় ও ঋণসমূহ বিয়োগ করা হয়।

এই মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দেওয়ার পর যে উদ্বৃত্ত বৈদেশিক মুদ্রা অবশিষ্ট থাকে, সেটিকেই একটি দেশের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই প্রকৃত রিজার্ভের ওপর ভিত্তি করেই আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি পরিমাপ করা হয়ে থাকে, যা বর্তমানে ৩০ হাজার ১৬০ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমাদৃত অবস্থানে রয়েছে।