খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ৭:৫১ পিএম

কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মজমপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার দুই সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক খবরওয়ালা’ পত্রিকার ওই দুই সংবাদকর্মীর ওপর দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালায়। হামলায় এক ভিডিও সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, মাইক্রোফোন এবং নগদ অর্থসহ সর্বমোট ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৩২ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
Table of Contents
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মজমপুর মফিজ উদ্দিন বিশ্বাস লেনের ‘তেঁতুল তলা’ নামক স্থানে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় মোঃ রেজা চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির আবাসিক বাড়ির প্রাচীর (দেওয়াল) নির্মাণে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ কাভারেজের জন্য দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার দুই প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে যান।
তথ্য ও ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করার সময় বাড়ির মালিক মোঃ রেজা চৌধুরী এবং মোঃ সেলিম চৌধুরীসহ আরও ১০-১২ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। হামলাকারীরা কোদাল, জিআই পাইপ, রড কাটার, হাতুড়ি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়।
হামলায় দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ভিডিও সাংবাদিক মোঃ ইমরান হোসেনের মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একই সঙ্গে উপস্থিত পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ রঞ্জুউর রহমানকে হামলাকারীরা কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে সাংবাদিকরা প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল থেকে কোনোমতে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
গুরুতর আহত ভিডিও সাংবাদিক ইমরান হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
হামলায় সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষয়ক্ষতির একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক খতিয়ান নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| মালামাল ও অপহৃত সামগ্রীর বিবরণ | মডেল ও সুনির্দিষ্ট তথ্য | আনুমানিক মূল্য/পরিমাণ (টাকা) |
| পেশাগত ভিডিও ক্যামেরা | প্যানাসনিক পিভি-১০০ (Panasonic PV-100) | ১,২০,০০০ টাকা |
| স্মার্টফোন (০২টি) | স্যামসাং এ-১৩ এবং ইনফিনিক্স-১২ | ৩৯,৫০০ টাকা |
| অডিও মাইক্রোফোন | বয়া (Boya) ব্র্যান্ডের মাইক্রোফোন | ১৫,৫০০ টাকা |
| নগদ অর্থ | তরল মুদ্রা | ৯,৯৩২ টাকা |
| সর্বমোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি | ক্যামেরা, মোবাইল, মাইক্রোফোন ও নগদ টাকা | ১,৮৪,৯৩২ টাকা |
এই হামলার ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তারা কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি আনুষ্ঠানিক এজাহার (মামলা) দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার আল মামুন সাগর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন, ইবি থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল এবং কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুন্সি শাহীন আহমেদ জুয়েলসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য