কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) একজন ব্যক্তিকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মাদক সংক্রান্ত টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার চার দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তার মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (৩৫)। তিনি বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান। তার মৃত্যুর পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে বুড়িচং পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই সম্প্রদায়ের জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহির নামের এক ব্যক্তি মাহির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিন পর তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকার সরকারি জমিতে কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। তারা সেখানে ঘর নির্মাণ করে অবস্থান করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই গোষ্ঠীর মধ্যে কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিহত মাহিও পূর্বে মাদক সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয়দের আরও দাবি, সম্প্রতি মাদক সংক্রান্ত টাকার ভাগাভাগি নিয়ে একই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি মাদক সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে যে মামলা করেছেন, তা তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও সাতজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে দোলা নামের একই সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহিরকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্পৃক্তদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
