পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের (এজেকে) রাওয়ালকোটে রোববার পুলিশ ও সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার সরকারি এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। কয়েকদিন ধরে চলা এই সহিংস বিক্ষোভের কারণে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
Table of Contents
হতাহত ও আটকের দাপ্তরিক পরিসংখ্যান
এজেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের সাথে এই সংঘর্ষে ২৩ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে রোববার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আজাদ কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে গত কয়েকদিন ধরে সহিংস বিক্ষোভ চলছে। এর আগে গত শনিবার বিক্ষোভের জেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত চারজন সদস্য নিহত হন।
সহিংসতার সূত্রপাত ও প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্র এবং কর্মকর্তাদের দাবি, গত শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় স্থানীয় এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই মূলত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
হাসপাতালে হামলা ও সংঘর্ষের বিবরণ
সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, রোববার আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালকোটের কম্বাইন্ড军事 হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ হামলা চালিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে উত্তেজিত জনতা তাদের মুখোমুখি হয়। পরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় কেউ আহত হননি।
তথ্যপ্রবাহ সীমিত ও স্থানীয়দের শঙ্কা
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর খবর অনুসারে, পুরো অঞ্চলে মোবাইল ডেটা বা ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে স্থানীয়দের আশঙ্কা, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও বেশি হতে পারে।
