জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৫ পিএম

ফর্মের তুঙ্গে থেকেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে জায়গা পাননি পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। প্রথম টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নেওয়ার পরও তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্ময়। পরিসংখ্যান বলছে, আগের টেস্টে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া কোনো পাকিস্তানি বোলারকে পরের টেস্টের একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা প্রায় চার দশকের মধ্যে এই প্রথম।
এর আগে এমন নজির দেখা গিয়েছিল ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে। সে সময় ভারত সফরে কানপুর টেস্টে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন পাকিস্তানের এহতেশামউদ্দিন। কিন্তু পরের ম্যাচ, চেন্নাই টেস্টে তাকে একাদশে রাখা হয়নি। তার পরিবর্তে খেলেছিলেন ইমরান খান। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এমন ঘটনা আর দেখা যায়নি। ফলে আব্বাসের বাদ পড়া পাকিস্তান ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে একটি বিরল অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের ৯০ রানের হার সত্ত্বেও আব্বাস ছিলেন দলের অন্যতম সফল ক্রিকেটার। স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে তার বোলিংয়ের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১১ রানে অলআউট হয়। আব্বাস ৬৩ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এই ডানহাতি মিডিয়াম পেসার। মাত্র ২২ রান খরচ করে তুলে নেন ৫ উইকেট। তার বোলিং আক্রমণে স্বাগতিক ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত ভেঙে পড়ে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচে পাকিস্তানের সেরা বোলারদের একজন ছিলেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্য দলীয় পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ৯০ রানে ম্যাচটি হেরে যায়। সেই পরাজয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে একাদশে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয় দলীয় ব্যবস্থাপনা। আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন আব্বাস।
দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালের উইকেট ও স্থানীয় কন্ডিশন বিবেচনায় নিয়েই আব্বাসকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পাকিস্তান দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অধিনায়ক বাবর আজম টসের সময় বলেন, কন্ডিশনের পার্থক্য বিবেচনায় তারা একাদশে একজন অতিরিক্ত স্পিনার খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আব্বাসের পাশাপাশি প্রথম টেস্টে খেলা আমের জামাল ও খুররম শাহজাদকেও দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাদের জায়গায় দলে সুযোগ পেয়েছেন আওয়াইস জাফর ও উবাইদ শাহ। উবাইদ শাহর জন্য এটি ছিল আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ।
এদিকে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা শান মাসুদ চোটের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি। তার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন আবদুল্লাহ শফিক। ফলে দ্বিতীয় টেস্টের আগে পাকিস্তানের একাদশে একাধিক পরিবর্তন দেখা যায়।
আব্বাসকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটীয় কৌশলের অংশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে পরিসংখ্যানের দিক থেকে ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বিরল। একজন বোলার যখন আগের টেস্টেই ৮ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকেন, তখন পরের ম্যাচে তাকে একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দেয়।
পাকিস্তানের জন্য এখন মূল প্রশ্ন, কন্ডিশন বিবেচনায় নেওয়া এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হয়। প্রথম টেস্টে আব্বাসের দুর্দান্ত বোলিং সত্ত্বেও দল হারলেও দ্বিতীয় টেস্টে তার অনুপস্থিতিতে নতুন সমন্বয় কতটা সফল হবে, সেটিই সিরিজের পরবর্তী অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪০ বছর পর পাকিস্তান ক্রিকেটে এমন একটি বিরল ঘটনা ঘটায় আব্বাসকে ঘিরে আলোচনা তাই থামছে না।
মন্তব্য