এশীয় বাণিজ্যিক বিমার বাজারে টানা সপ্তম প্রান্তিকে দরপতন

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এশিয়ার বাণিজ্যিক বিমার বাজারে ৫ শতাংশ দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। বৈশ্বিক বিমা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘মার্শ’-এর এশীয় বিমা বাজার সূচক অনুযায়ী, এটি টানা সপ্তম প্রান্তিক যেখানে এশীয় অঞ্চলে বিমার হার ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেল। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং বিমাকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাজারভিত্তিক বিমা হারের পরিবর্তন

পুরো এশিয়ায় বিমার হার কমলেও ভিয়েতনাম এবং জাপান এই সাধারণ ধারার বিপরীতে অবস্থান করছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ভিয়েতনামে বিমার হার ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ২০২৬ সালের শুরুতে কিছুটা কমে ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জাপানের বাজারে বিমার হার ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের প্রান্তিকের ১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় বেশি। মূলত জাপান বাদে এশিয়ার অন্যান্য প্রধান বাজারগুলোতে সাধারণ দায়বদ্ধতা এবং অন্যান্য বিমা প্রিমিয়াম স্থিতিশীল ছিল অথবা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

বিভিন্ন খাতের বিস্তারিত বিমা পরিস্থিতি

সম্পত্তি বিমার ক্ষেত্রে এশীয় অঞ্চলে ৫ শতাংশ হ্রাস পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বিগত কয়েক প্রান্তিকের তুলনায় অপরিবর্তিত। অন্যদিকে, কজুয়াল্টি বিমার ক্ষেত্রে দরপতনের মাত্রা বেড়েছে; আগের প্রান্তিকে ১ শতাংশ হ্রাস পেলেও বর্তমান প্রান্তিকে তা ২ শতাংশে পৌঁছেছে। আর্থিক ও পেশাদার লাইনের বিমা প্রিমিয়াম ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা বিগত প্রান্তিকে ছিল ১০ শতাংশ। পরিচালক ও কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা বিমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিমার ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

নিচে বিভিন্ন খাতের বিমা হারের পরিবর্তনের একটি তুলনামূলক সারণী দেওয়া হলো:

বিমার খাত২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের হারপূর্ববর্তী প্রান্তিকের হার (২০২৫-Q৪)
বাণিজ্যিক বিমা (সামগ্রিক)৫% হ্রাসহ্রাস অব্যাহত
সম্পত্তি বিমা৫% হ্রাস৫% হ্রাস
কজুয়াল্টি বিমা২% হ্রাস১% হ্রাস
আর্থিক ও পেশাদার লাইন৭% হ্রাস১০% হ্রাস
সাইবার বিমা৬% হ্রাস১০% হ্রাস

চীনা আইপিও এবং সাইবার বিমার প্রভাব

বিমা বাজারে হারের এই পরিবর্তনের পেছনে কিছু ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কারণ কাজ করেছে। বিশেষ করে চীনের ‘প্রাথমিক গণপ্রস্তাব’ বা আইপিও কার্যক্রম আঞ্চলিক পুঁজিবাজারগুলোতে স্থানান্তরিত হওয়ায় বড় অংকের প্রিমিয়াম সংগ্রহের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে বিমাকারীদের মধ্যে বাজারে টিকে থাকার প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

সাইবার বিমার ক্ষেত্রে হারের পতন ৬ শতাংশে এসে ঠেকেছে, যা আগের প্রান্তিকে ১০ শতাংশ ছিল। বাজারে নতুন বিমা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকরা এখন আরও নমনীয় শর্তে বিমা সুবিধা পাচ্ছেন। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শারীরিক সাইবার ঝুঁকির মতো জটিল বিষয়গুলো মোকাবিলায় বিমা কোম্পানিগুলো তাদের পলিসির শব্দচয়ন ও পরিধি আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করছে।

চাহিদার স্থায়িত্ব ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

বিমার প্রিমিয়াম বা হার হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও বাজারে এর চাহিদা বেশ শক্তিশালী রয়েছে। সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান হার এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিমা গ্রহণকে তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। অনেক বাণিজ্যিক গ্রাহক প্রিমিয়াম হ্রাসের ফলে সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিমা সুবিধা গ্রহণ করছেন, যা বাজারের তারল্য ও সক্রিয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। মূলত বিমাকারীদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা এবং গ্রাহকদের সচেতনতা এশিয়ার বিমা বাজারকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।