খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই মার্চ ২০২৬, ৭:২৮ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করা ঠিক নয় বলে সতর্ক করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “একাত্তর আগে, বাকি সব পরে।” সরকারের পক্ষ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, বিএনপি কারো অবদান অস্বীকার করে না।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিএনপির আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, শহীদ ও নেতা দলের ত্যাগ এবং স্বাধীনতার সূচনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
Table of Contents
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জানে ও শুনেছে যে স্বাধীনতার ঘোষণা কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান, প্রভিশনাল হেড অব দ্য স্টেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
তিনি আরও বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অবদান সরকার স্বীকার করে। আমরা কারো বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাই না।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সকল রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্মানিত ও অখণ্ড রাখার গুরুত্ব আরোপ করেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, একাত্তরের ইতিহাস কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মেলানো যাবে না। এটি জাতীয় গৌরব ও পরিচয়ের অংশ, তাই ইতিহাসের মর্যাদা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
তিনি সমালোচনা করেন যে মাঝে মাঝে ইতিহাসের বিভিন্ন দিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা পার্থক্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়। এ বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
| বিষয় | বক্তব্য/তথ্য |
|---|---|
| আলোচনা আয়োজক | বিএনপি, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন |
| বক্তা | স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ |
| গুরুত্বপূর্ণ বার্তা | একাত্তর আগে, বাকি সব পরে; ইতিহাসকে সম্মান করতে হবে |
| স্বাধীনতার ঘোষণা | ২৭ মার্চ ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমান, কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র |
| শহীদ ও নেতাদের স্বীকৃতি | সরকার সকলের অবদান স্বীকার করে |
| ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব | রাজনৈতিক বিভাজন ছাড়াই একাত্তরের ইতিহাস অখণ্ড রাখা |
| রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ | বিএনপি কারো অবদান অস্বীকার করে না |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের বাইরে সম্মানিতভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একাত্তরের শহীদ, নেতা ও সাধারণ মানুষের অবদান চিরস্থায়ী এবং তা কখনো অন্য ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।
মন্ত্রী অনুরোধ করেন, সব পক্ষ মিলে একাত্তরের ইতিহাসকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস থেকে প্রেরণা নিতে পারে এবং জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক গৌরব অটুট থাকে।
এভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কেবল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক নয়, বরং জাতীয় পরিচয়, গণঅভ্যুত্থান এবং সংগ্রামের ইতিহাস হিসেবে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
মন্তব্য