খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই মে ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায় ঋণের ভার, পারিবারিক কলহ এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের জেরে আমিনা বেগম (৩২) নামে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতের দিকে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাখিমারা দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আমিনা বেগম ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী শিপন মিয়ার স্ত্রী এবং সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার ভাঙ্গাবাড়ি এলাকার আব্দুল হাকিমের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে সংসারের অভাব দূর করার আশায় ধারদেনা করে শিপন মিয়া সৌদি আরবে পাড়ি জমান। শুরুতে কিছুদিন নিয়মিত আয় পাঠালেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি বদলে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, বিদেশে যাওয়ার পর শিপন মিয়া অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে পরিবারে টাকা পাঠানো বন্ধ হয়ে যায় এবং ধার করা অর্থের কিস্তি পরিশোধও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এতে পরিবারে ঋণের বোঝা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে আমিনা বেগম একদিকে ঋণদাতাদের চাপ, অন্যদিকে স্বামীর অবহেলা ও অনিয়মিত যোগাযোগ—সব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত ঝগড়া ও বাকবিতণ্ডা চলছিল। সংসারের দায়িত্ব একাই সামলাতে গিয়ে আমিনা বেগম চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের ভেতরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার দাবি করেছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি জানালে প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | আমিনা বেগম |
| বয়স | ৩২ বছর |
| বৈবাহিক অবস্থা | বিবাহিত, দুই সন্তানের জননী |
| স্বামীর পরিচয় | সৌদি প্রবাসী শিপন মিয়া |
| ঘটনার স্থান | পাখিমারা দক্ষিণপাড়া, সরিষাবাড়ী |
| ঘটনার সময় | বৃহস্পতিবার রাত |
| সম্ভাব্য কারণ | ঋণ, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ |
স্থানীয়দের মতে, বিদেশফেরত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ঋণের চাপ পরিবারটিকে চরম সংকটে ফেলে দেয়। পাশাপাশি স্বামীর অনিয়মিত যোগাযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তারা মনে করেন, এমন পারিবারিক সংকট অনেক সময় সামাজিক ও মানসিক সহায়তার অভাবে চরম পরিণতির দিকে গড়ায়।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের আর্থিক অনিয়ম, অনলাইন আসক্তি এবং পরিবারের ওপর তার প্রভাব। স্থানীয়রা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি রোধে পরিবারভিত্তিক সচেতনতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
মন্তব্য