খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের ঠিক নিচে পাওয়া গেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক এক আইইডি বা পাইপ বোমা। পুলিশ জানাচ্ছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধানতম উৎসবের অন্যতম উল্টো রথযাত্রায় নাশকতার উসকানিমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পরিত্যক্ত একটি ছাতার নিচে সুকৌশলে বোমাটি পেতে রাখা হয়েছিল। তবে উল্টো রথযাত্রায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার পুণ্যার্থীর মাঝে ভীতি ছড়িয়ে যেন অনভিপ্রেত হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়, সে জন্য পুলিশ চরম বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। সাধারণ মানুষকে প্যানিক না ছড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে ‘শর্ট সার্কিট’ হয়েছে বলে সাময়িকভাবে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে রথযাত্রার সুবিশাল মিছিলটি নিরাপদে পার হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমের দিকে রওয়ানা দেওয়ার পরপরই আসরে নামেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের রোবোটিক বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড। পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে শক্তিশালী বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। এই শ্বাসরুদ্ধকর ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির সবিস্তার উল্লেখ করে মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক উপাদান আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এসআই মো. মুক্তা বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের নামে এই মামলাটি করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে বড় কোনো ট্র্যাজেডি ঘটাতেই দুর্বৃত্তরা এমন পরিকল্পনা করেছিল। তবে সময়মতো বস্তুটি নজরে আসায় এড়ানো গেছে মারাত্মক বিপর্যয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শুক্রবার ইসকন আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী উল্টো রথযাত্রার নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন ছিলেন এসআই মুক্তা। ঐতিহ্য মেনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বের হওয়া মিছিলটি শাপলা চত্বর পেরিয়ে স্বামীবাগ অভিমুখে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি খোলা ছাতার ভেতরে লাইট জ্বলতে থাকা বস্তু দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ডিএমপির কন্ট্রোল রুমে খবর পাঠায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ।
খবর পাওয়া মাত্রই মতিঝিল থানা পুলিশের একটি দল জায়গাটি ফিতা টেনে ঘিরে ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে শোভাযাত্রার সামনের অংশটি সেখানে পৌঁছায়। অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা তাড়াহুড়ো করে পালাতে গিয়ে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে কারণে শর্ট সার্কিটের বাহানা দিয়ে যাত্রীদের দিক পরিবর্তন করিয়ে বিকল্প রাস্তায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে সিটিটিসির বিশেষজ্ঞ দল বিশেষ সতর্কতায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডিভাইসটি অকেজো করে। জব্দ করা আলামতের মধ্যে জিআই পাইপের খণ্ড, উচ্চক্ষমতার ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক সার্কিট এবং স্প্লিন্টার হিসেবে ব্যবহৃত প্রচুর লোহার বিয়ারিং বল পাওয়া গেছে। মূলত বিস্ফোরণের প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে প্রাণহানি নিশ্চিত করতেই বিয়ারিং বলগুলো ভরা হয়েছিল।
নিষ্ক্রিয়করণের সময় দুর্ভাগ্যবশত স্প্লিন্টারের একটি ভাঙা অংশ ছিটকে এসে ৬৬ বছর বয়সী মিরাজ আহমেদ নামে এক সাধারণ পথচারীর বাঁ চোখে গিয়ে লাগে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত স্থানান্তরিত করা হয় আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। ঘটনাটির নেপথ্যে কাদের ইন্ধন ছিল এবং কারা নাশকতার উদ্দেশ্যে ছাতার ভেতর বোমাটি লুকিয়ে রেখেছিল, তা শনাক্তে ছায়া তদন্তে নেমেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
মন্তব্য