আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে টসে জিতে বা হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামলেই ভারতের স্কোরবোর্ডে ২০০ ছাড়ানো রান এখন যেন নিয়মিত দৃশ্য। চার-ছক্কার ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে এই সংস্করণের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে তারা। সেই ধারাবাহিকতায় জিম্বাবুয়ে সফরে হারারেতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৯ রানের পাহাড় গড়ে তরুণ ভারত। এই বড় সংগ্রহের পথ ধরেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এক ক্যালেন্ডার বর্ষে সবচেয়ে বেশিবার দলীয় ২০০ রান পার করার অনন্য নজির তৈরি করল টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
চলতি ২০২৬ পঞ্জিকাবর্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটি ভারতের নবম ২০০ বা তার বেশি রানের দলীয় ইনিংস। এই রেকর্ডে ভারত আসলে ভেঙেছে নিজেদেরই আগের কীর্তি। এর আগে ২০২৪ সালে রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের অধীনে ২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে মোট ৯ বার দুই শর গণ্ডি ছুয়েছিল তারা। সেই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পথে ভারত দেখায় আগ্রাসী ক্রিকেটের প্রদর্শনী। পরে ২০২৬ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরার পর নেতৃত্বে রদবদল ঘটে, অধিনায়কের দায়িত্বে আসেন শ্রেয়াস আইয়ার।
তবে দলনায়ক কিংবা একাদশে পরিবর্তন এলেও কমেনি ভারতীয় ব্যাটারদের আক্রমণের ধার। বরং ২০২৪ সালের চেয়েও দ্রুতগতিতে এই নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে দলটি। আগের বার ৯ বার ২০০ ছুতে ২৬টি ম্যাচ লেগেছিল, আর এবার মাত্র ২৩টি টি-টোয়েন্টিতে খেলেই ৯ বার ২০০ ছাড়ানো ইনিংস খেলল ভারত। বছর শেষ হতে এখনো প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস বাকি থাকায় এই সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের কৌতুহলের বিষয়।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জয় পাওয়া ভারত দ্বিতীয় ম্যাচেও জিম্বাবুয়েকে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে হারিয়েছে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় দুই ব্যাটার ঈশান কিষান ও তিলক বর্মা জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। ঈশান ৪৪ বলে চমৎকার ৮১ রান করেন এবং তিলক ২৯ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। দুই তরুণের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১৯ রান।
২২০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে তাাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৭.৫ ওভারে ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্রায়ান বেনেট ৩২ এবং টিডিওয়ানশে মারুমানি ২৪ রান করেন। ভারতের হয়ে অফস্পিনে আলো ছড়িয়ে ১৭ রানে ৩টি উইকেট নেন অভিষেক শর্মা। এছাড়া পেসার যশ ঠাকুর ও প্রিন্স যাদব পান ২টি করে উইকেট। ৯০ রানের বড় জয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে কিষানের হাতে।









