খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

চলতি ২০২৬ সালের ২০ থেকে ২৪ জুলাই সপ্তাহের বিশ্ব বিমা খাতের চিত্রটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল ও ইতিবাচক। এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক বিমা বাজারজুড়ে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হার বেশ নেমে এসেছে। তবে দুর্যোগের ক্ষতি কমলেও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন (এমঅ্যান্ডএ) বা সংমিশ্রণ ও অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ‘ট্রানজ্যাকশন রিস্ক’ বা লেনদেনজনিত বিমা দাবির মাত্রা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন বহুজাতিক বিমা প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের নতুন চুক্তি, শেয়ার অধিগ্রহণ ও উদ্ভাবনী বিমাপণ্য চালুর মধ্য দিয়ে নতুন গতি লাভ করেছে বৈশ্বিক বাজার।
আন্তর্জাতিক পুনঃবিমা ব্রোকার গ্যালাঘার রির সদ্য প্রকাশিত ‘এইচ১ ২০২৬ ন্যাচারাল ক্যাটাস্ট্রফি অ্যান্ড ক্লাইমেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধে (জানুয়ারি-জুন) সারা বিশ্বে একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলেও বিমা খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর তার সার্বিক প্রভাব ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় সর্বনিম্ন। বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশের বিমা খাত এই সময়ে বড় ধরনের স্বস্তি দেখেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিমাকৃত মোট ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারেরও নিচে। মহাদেশীয় স্তরে এটি ২০১৭ সালের পর থেকে বিগত নয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অর্ধবার্ষিক ক্ষতির রেকর্ড।
অন্যদিকে ব্যবসায়িক সংমিশ্রণ বা লেনদেনের ঝুঁকি সম্পর্কিত বিমার চাহিদায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ‘আয়ন ২০২৬ গ্লোবাল ট্রানজ্যাকশন সলিউশনস ক্লাইমস স্টাডি’র সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এশিয়া-প্যাসিফিকের বাণিজ্য বাজার দিন দিন পরিপক্ব ও জটিল হওয়ায় ভারত, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ওয়ারেন্টি অ্যান্ড ইনডেমনিটি (ডব্লিউঅ্যান্ডআই) এবং ট্যাক্স লায়াবিলিটি বিমার ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বড় আকারের জটিল চুক্তিগুলোর কারণে উচ্চমূল্যের বিমা দাবি তৈরি হলেও আন্ডাররাইটিং সক্ষমতা বাড়ায় বাজারটি সুসংগঠিত রূপ নিচ্ছে।
একই সপ্তাহে বৈশ্বিক বিভিন্ন বিমা প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত সম্প্রসারণ ও নতুন পণ্য উন্মোচনের খবর নজরে এসেছে:
আলিয়াঞ্জ ও এইচএসবিসি লাইফ সিঙ্গাপুর: বিমা খাতের জায়ান্ট আলিয়াঞ্জ প্রায় ২১০ কোটি মার্কিন ডলারে (২.৭ বিলিয়ন সিঙ্গাপুরি ডলার) এইচএসবিসি লাইফ সিঙ্গাপুরের শতভাগ শেয়ার কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত চুক্তি করেছে। বিতরণ চুক্তিসহ এই লেনদেনের মোট অর্থমূল্য প্রায় ২৩০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে ২০২৭ সালের প্রথম অর্ধে এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে পারে।
সম্পো ইন্টারন্যাশনাল ও ফাতোর সেগুরাদোরা: বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিমা গোষ্ঠী সম্পো ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস ব্রাজিলের স্থানীয় কর্পোরেট বিমা বাজারে নিজেদের অবস্থান জোরালো করার লক্ষ্য নিয়ে শতভাগ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে সেদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘ফাতোর সেগুরাদোরা’ ক্রয়ে একমত হয়েছে। বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের বিমা সেবা প্রসারে সংস্থাটি কাজ করবে।
চাব ফিলিপাইনস ও অ্যাটম: ফিলিপাইনে কেনাকাটার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাটম’-এর সঙ্গে কৌশলগত জোট বেঁধেছে চাব ফিলিপাইনস। তাদের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ‘অ্যাটম কার্ড শিল্ড’ বিমা সেবার আওতায় কার্ডধারীরা প্রতি মাসে মাত্র ০.৯৯ ডলার (৬২ ফিলিপিনো পেসো) খরচে অনলাইন কেনাকাটার জালিয়াতি, অননুমোদিত লেনদেনের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমার সুরক্ষা সুবিধা পাবেন।
টেককম ইন্স্যুরেন্স ভিয়েতনাম: ভিয়েতনামের অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করার পর টেককম ইন্স্যুরেন্স ‘সং আন হেলথ ইন্স্যুরেন্স’ নামে দেশটির ইতিহাসের প্রথম ‘কো-পেমেন্ট’ স্বাস্থ্যবিমা সেবা চালু করেছে। মূলত সরকারি জাতীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনার বাইরে থাকা অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়—যেমন উন্নত হাসপাতালের বেড ভাড়া, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ ও জটিল অস্ত্রোপচারের খরচ বহনে এই বিমা দারুণ কাজে আসবে।
মন্তব্য