রাজধানীর পুরান ঢাকার ধূপখোলা এলাকায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটি ধূপখোলা এলাকার একটি ছয় তলার মেসের একক রুমে ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম ইমরান নাবিল প্রামাণিক। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। ইমরানের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানায়। মৃত শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহরের একটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানান, ইমরানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থানায় যান। তিনি বলেন, “ইমরান তিনজন মেসে একসাথে থাকতো। নির্বাচনের জন্য দুজন বাড়িতে গিয়েছিল, ফলে সে একাই রুমে ছিল।”
গেন্ডারিয়া থানার ওসি গোলাম মর্তুজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রুমমেটদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আমরা দেখেছি লাশটি ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলানো ছিল। তার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি এটি আত্মহত্যা। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইমরান মানসিকভাবে কিছুটা চাপের মধ্যে ছিলেন।”
নিহতের তথ্য সংক্ষেপে:
| তথ্যের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | ইমরান নাবিল প্রামাণিক |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় |
| বিভাগ | ইসলামিক স্টাডিজ |
| শিক্ষাবর্ষ | ২০১৬-১৭ |
| গ্রামের ঠিকানা | সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা |
| মেসের অবস্থান | ধূপখোলা, পুরান ঢাকা |
| উদ্ধার সময় | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন (প্রায়) |
| হত্যার ধরন (প্রাথমিক অনুমান) | আত্মহত্যা |
| লাশের অবস্থা | ফ্যানের সঙ্গে গামছায় ঝুলানো |
| পুলিশি কার্যক্রম | ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
পুলিশের তদন্ত চলছে এবং তারা ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে এবং মানসিক সমর্থন প্রদানের ব্যবস্থা করছে।
ঘটনাটি ধূপখোলা এলাকায় ছাত্র-যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, “ইমরান সবসময় শান্ত ও বিনয়ী ছিলেন। এমন ঘটনা আমাদের সবাইকে স্তম্ভিত করেছে।”
