খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুন ২০২৬, ৮:৩৮ এএম

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আজ এক ঐতিহাসিক ও অনন্য ঘটনার সাক্ষী হলেন ক্রীড়ামোদিরা। ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়ে এবং আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মাঠের তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রেকর্ডের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট দুটি দেশের একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নামার এক নতুন নজির তৈরি হলো এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে।
Table of Contents
ম্যাচটিতে অংশগ্রহণকারী দুই দেশের মোট জনসংখ্যা একত্রে হিসাব করলে দাঁড়ায় মাত্র ৩৯ থেকে ৪০ লাখের কাছাকাছি। ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার এই ক্ষুদ্রতা সত্ত্বেও বিশ্বমঞ্চে তাদের লড়াই ছিল দেখার মতো।
উরুগুয়ে: দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বর্তমান মোট জনসংখ্যা ৩৫ লাখের চেয়ে কিছুটা কম। ১৯৩০ এবং ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ জয় করা এই দেশের ফুটবল ঐতিহ্য ও গৌরব তাদের জনসংখ্যার তুলনায় বহুগুণ বিশাল।
কেপ ভার্দে: অন্যদিকে, আফ্রিকার প্রতিনিধি কেপ ভার্দে এবারই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। জনসংখ্যার দিক থেকে তারা এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। দেশটির মোট জনসংখ্যা মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজারের মতো, যার মধ্যে প্রধান শহর ও রাজধানী প্রাইয়াতেই বসবাস করেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ। কার্যত একটি সাধারণ মহানগরের সমান জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের বীরত্ব জানান দিচ্ছে এই নবাগত দলটি।
স্পেনকে রুখে দেওয়ার পর, এই ম্যাচে শক্তিশালী উরুগুয়ের সাথে ২-২ গোলে ড্র করে কেপ ভার্দে তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে রেখেছে।
হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর থেকেই নবাগত কেপ ভার্দে দুর্দান্ত সাহসিকতা প্রদর্শন করে। ম্যাচের ২১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে কেপ ভার্দের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কেভিন পিনা একটি বুলেট গতির দর্শনীয় সরাসরি ফ্রি কিকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা দলটির এটি দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম গোল। এই গোলের মাধ্যমে কেভিন পিনা আফ্রিকার তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল করার গৌরব অর্জন করেন।
অন্যদিকে, এই গোলটি হজমের মাধ্যমে উরুগুয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মুখোমুখি হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে উরুগুয়ে এই প্রথম সরাসরি ফ্রি কিক থেকে কোনো গোল হজম করল। এর আগে ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে তারা শেষবার সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল খেয়েছিল। দীর্ঘ ১৯ বছর পর উরুগুয়ে আবারও এই ধরনের গোল হজম করতে বাধ্য হয়।
পিছিয়ে পড়ে উরুগুয়ে তাদের আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি করে। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে উরুগুয়ের মিডফিল্ডার মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। বক্সে উড়ে আসা একটি বল কেপ ভার্দের পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ফিরতি বলকে জালে জড়ান তিনি। এর ঠিক পরেই, প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের ৬ষ্ঠ মিনিটে উরুগুয়ে দ্বিতীয় গোলটি লাভ করে। সতীর্থের চমৎকার এক হেড থেকে বল পেয়ে পায়ের আলতো টোকায় গোলটি করেন উরুগুয়ের আরেক মিডফিল্ডার আগুস্তিন কানোবিও। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে উরুগুয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে থাকা কেপ ভার্দে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে। ম্যাচের ৬১ মিনিটে উরুগুয়ের রক্ষণভাগের ভয়াবহ ভুল বোঝাবুঝির পূর্ণ সুযোগ নেয় তারা। উরুগুয়ের ডিফেন্ডার মাতিয়াস অলিভেরা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ঠিকমতো পা ছোঁয়াতে পারেননি এবং গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাও নিজের গোললাইন ছেড়ে অনেকটা সামনে এগিয়ে এসেছিলেন।
এই চরম ভুলের সুযোগে কেপ ভার্দের ফরোয়ার্ড হেলিও ভারেলা দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং দূরপাল্লার এক নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচটিতে ২-২ গোলে সমতা আনেন। জাতীয় দলের হয়ে এটিই হেলিও ভারেলার প্রথম গোল। এই গোলের মাধ্যমে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই দুটি গোল করার কৃতিত্ব দেখায়। ম্যাচের বাকি সময়ে কোনো দলই আর গোল করতে না পারায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
| সময় (মিনিট) | গোলদাতা খেলোয়াড় | দলের নাম | গোলের বিবরণ |
| ২১ মিনিট | কেভিন পিনা | কেপ ভার্দে | বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির সরাসরি ফ্রি কিক। |
| ৪৪ মিনিট | মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো | উরুগুয়ে | পোস্টে লেগে ফিরে আসা বল থেকে ফিরতি শটে গোল। |
| ৪৫+৬ মিনিট | আগুস্তিন কানোবিও | উরুগুয়ে | সতীর্থের হেড পাসের পর পায়ের টোকায় গোল। |
| ৬১ মিনিট | হেলিও ভারেলা | কেপ ভার্দে | প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের ভুলে দূরপাল্লার শটে গোল। |
এই ম্যাচের আগে ‘এইচ’ গ্রুপের দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট করে অর্জন করেছিল। এই ঐতিহাসিক ড্রয়ের পর দুই ম্যাচ শেষে দুই দলেরই সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২ পয়েন্ট। এই গ্রুপের অপর ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে মোট ৪ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে স্পেন।
মন্তব্য