খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই মার্চ ২০২৬, ৩:২৫ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তীব্র হয়ে উঠেছে। তাঁরা যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়, অঞ্চলের নিরাপত্তা, এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিবেচনা করে সম্ভাব্য “এক্সিট র্যাম্প” বা কৌশলগতভাবে যুদ্ধ থেকে পিছু হঠার উপায় খুঁজছেন। সামরিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব সমাপ্ত না হলে অঞ্চলটি দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল হবে এবং তেল-গ্যাসের বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
Table of Contents
ইসরাইলি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, অভিযান লক্ষ্য অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছে। ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক-গোপন সংস্থাগুলোকে নিশানা করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সমাপ্তি এখনও নিশ্চিত নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধকে “সম্পূর্ণ জয়” পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় অটল।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ | লক্ষ্য অবস্থা |
|---|---|---|
| পারমাণবিক কর্মসূচি | অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করা | প্রায় শেষ পর্যায়ে |
| ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র | মূল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার | ধ্বংস প্রক্রিয়াধীন |
| সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃবৃন্দ | শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য | ধ্বংস প্রক্রিয়াধীন |
| বৈশ্বিক অর্থনীতি | তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি | উদ্বেগজনক |
২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছেলের স্থলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত তিনি আলোচনার টেবিলে বসার মানুষ নন। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো এই কূটনৈতিক বাধা এবং ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ ব্যয়।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা প্রধান দুটি ঝুঁকি উল্লেখ করেছেন:
লেবাননে বড় স্থল অভিযান – হিজবুল্লাহকে শক্তিহীন করতে সীমান্তে সেনা মোতায়েন রয়েছে, তবে বৃহৎ আক্রমণের পরিকল্পনা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক – যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে না টানার জন্য কৌশলগত সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কেউই অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধের ময়দানে থাকতে চাই না। প্রধান লক্ষ্যগুলো পূর্ণ হলে, ইসরাইল তার সামরিক উদ্দেশ্য অর্জন করবে। যদিও ইরান আত্মসমর্পণ করবে না, তারা মার্কিন শর্তে যুদ্ধবিরতি মানতে পারে।”
সংঘাতের পরবর্তী ধাপ অনিশ্চিত। নেতানিয়াহু ইরানের শাসনকে “অস্থিতিশীল” করতে চাইছেন, কিন্তু কে প্রতিস্থাপন করবে তা স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখছেন, তবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। ফলে বর্তমান ইরান–ইসরাইল যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে, তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।
এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, সামরিক অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ইসরাইলকে যুদ্ধ থেকে কৌশলগতভাবে পিছু হাটার পথ বিবেচনা করতে বাধ্য করছে।
মন্তব্য