খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৫:০ পিএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরতে বিলম্ব হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) ইরানে মার্কিন হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ সময় রাত ১২টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ সেন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়ায়।
তেল বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা। এর আগে সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল বাজারে। তবে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই আশাবাদ অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।
এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির আট সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। বুধবার ভোরে চালানো ওই হামলায় নিহতরা ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরনা জানায়, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটে। এসব এলাকা সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে বন্দর আব্বাস হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত হওয়ায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা পরিচালনা করেছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের ও শেখ ইসা সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম, জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার ওপর আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
মন্তব্য