খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভ দমন অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়া হচ্ছে, যার ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে নিরাপদ এবং সম্পূর্ণ তথ্যের অভাবে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার মাধ্যমে বিক্ষোভ দমন এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণ চলছে, ফলে সঠিক পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক এলাকায় এক ইন্ডাস্ট্রিয়াল শেডের কাছে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক মরদেহ ‘বডি ব্যাগে’ রাখা হয়েছে। ফারদিস, কারাজ এবং পূর্ব তেহরানের আলঘাদির হাসপাতাল থেকেও অনুরূপ চিত্র পাওয়া গেছে, যা নির্দেশ করছে যে কঠোর দমন শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়।
উত্তরাঞ্চলের রাশত শহরের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, মাত্র একটি হাসপাতালেই অন্তত ৭০টি মরদেহ আনা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন অংশ এবং কারাজের ফারদিস এলাকায় সহিংসতা সবচেয়ে বেশি ঘটছে। অন্যান্য শহর থেকেও বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপকভাবে গুলি ছোড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভের আকার-প্রকৃতির সংক্ষিপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি নিম্নরূপ সংক্ষেপে টেবিলে দেখানো হলো:
| এলাকা / হাসপাতাল | রিপোর্টকৃত মৃতের সংখ্যা | পরিস্থিতি মন্তব্য |
|---|---|---|
| কাহরিজাক, তেহরান | কয়েক ডজন | মরদেহ বডি ব্যাগে রাখা; সরাসরি গুলি ব্যবহৃত |
| ফারদিস, কারাজ | ৭০+ | একাধিক হাসপাতালে মরদেহ পাঠানো হয়েছে |
| পূর্ব তেহরান, আলঘাদির হাসপাতাল | অসংখ্য | বিক্ষোভ দমনে কেন্দ্রীয় অস্ত্র ব্যবহার |
| অন্যান্য শহর | অনির্দিষ্ট | স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী প্রাণঘাতী অস্ত্র প্রয়োগ হচ্ছে |
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কয়েকজন বিক্ষোভকারী ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে হত্যা এবং সহিংসতার ভিডিও প্রকাশ করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হলেও, দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমন অভিযানের তীব্রতা আশঙ্কাজনক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকার জন্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মন্তব্য