পাবনায় নকল দুধ উৎপাদনে অভিযান, জরিমানা ও দণ্ডাদেশ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নকল দুধ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ উপাদান জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ফারুক হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি উপজেলার শিংগাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল এবং বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। পূর্বেও একই অপরাধে তাকে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই শাস্তির পরও তিনি নকল দুধ উৎপাদন বন্ধ করেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় নকল দুধ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ও নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে প্রায় ২০০ লিটার নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়।

শুধু ফারুক হোসেনই নন, একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনের নামও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে। চরভাঙ্গুড়া গ্রামের সঞ্জয় কুমার একাধিকবার জরিমানা ও শাস্তি ভোগ করলেও নকল দুধ উৎপাদন বন্ধ করেননি বলে জানা গেছে। একইভাবে কৈডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশারও পূর্বে অর্থদণ্ড পেলেও নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার করে নকল দুধ তৈরি অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কারখানা ও চিলিং সেন্টারের আড়ালে নিয়মিতভাবে নকল দুধ উৎপাদন করা হচ্ছে এবং তা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নিচে ঘটনাসমূহের একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—

ব্যক্তির নামগ্রামপূর্ব শাস্তিবর্তমান শাস্তিজব্দকৃত উপাদান
ফারুক হোসেনশিংগাড়ি জগন্নাথপুরপঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা (২০২৪)এক বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা২০০ লিটার গ্লুকোজ জেলি
সঞ্জয় কুমারচরভাঙ্গুড়াএকাধিকবার জরিমানাকার্যক্রম অব্যাহত (তথ্য অনুযায়ী)উল্লেখ নেই
আবুল বাশারকৈডাঙ্গাঅর্থদণ্ড (গত বছর)কার্যক্রম অব্যাহত (তথ্য অনুযায়ী)উল্লেখ নেই

ভাঙ্গুড়া বাজারের দুগ্ধ খামারি আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত খামারিদের দুধ সকাল ও সন্ধ্যায় চিলিং সেন্টারে পৌঁছায়। কিন্তু বর্তমানে কিছু সেন্টারে রাতের বেলায় বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ দুধ আসছে, যা সন্দেহজনক। তিনি এসব কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত নিষিদ্ধ উপাদান ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।