আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এবং মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে যুবলীগ নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট নিশ্চিত করেন।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে একই বছরের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট রাতে কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কারাগারের হাসপাতাল থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্যতম সদস্যদের একজন ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯৬–২০০১ মেয়াদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে একই মেয়াদে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ২০১৪–২০১৯ মেয়াদে আবারও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে তাঁর জন্ম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়ালেখার সময় থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ উপাধি যুক্ত হয়।
ছাত্রজীবনে তিনি ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৭০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জীবন ও রাজনৈতিক সময়রেখা
| সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯৪৩ | চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে জন্ম |
| ষাটের দশক | ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়তা ও ছয় দফা আন্দোলনে সম্পৃক্ততা |
| ১৯৭০ | পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত |
| ১৯৭১ | মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার |
| ১৯৭৩–২০১৮ | ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত |
| ১৯৯৬–২০০১ | মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন; পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত |
| ২০১৪–২০১৯ | গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী |
| ২০২৪ | ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার |
| ২০২৫ | হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে জামিনে মুক্তি |
| ২০২৬ | স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যু |
