খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলাটিপে নৃশংসভাবে হত্যার দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঘাতক স্বামীর সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দিয়েছেন আদালত। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আনোয়ার হোসেন নামের ওই স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আনোয়ার হোসেন জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী লম্বাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। সে পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১২ সালে। ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর রাতে আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী ইসমত আরা খাতুনের কাছে বাপের বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বাগ্বিতণ্ডা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার হোসেন নিজ বাড়িতেই ইসমত আরাকে প্রচণ্ড মারধর করেন এবং গলাটিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
নৃশংস এই ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১২ ডিসেম্বর নিহতের ভাই মজনু মিয়া বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় আনোয়ার হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামি আনোয়ার হোসেন আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে পলাতক জীবনযাপন শুরু করে।
মামলার পর থানা পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলার সত্যতা প্রমাণে মোট ছয়জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আনুষঙ্গিক নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেন।
আজ চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আনা স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিক্রিয়া: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচার পেয়েছে। সমাজে যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এবং এই ধরনের জঘন্য অপরাধের প্রবণতা কমাতে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
আইনি সূত্রে জানা গেছে, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার দিন কিংবা আদালতে আত্মসমর্পণ করার দিন থেকে এই সাজা কার্যকর হবে।
মন্তব্য