খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুন ২০২৬, ১২:২৪ এএম

সাভারের আশুলিয়া থানা এলাকার কুমকুমারী বাজারে ওষুধ কিনতে গিয়ে এগারো বছর বয়সী এক শিশু ভয়াবহ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল বেলায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত ফার্মেসি ব্যবসায়ী সিয়ামকে (৪০) হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই প্রদান করে এবং পরবর্তীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের হাতে সোপর্দ করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় প্রশাসন ও আশুলিয়া থানা পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
Table of Contents
আশুলিয়ার কুমকুমারী বাজার এলাকায় স্থানীয় থানা পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ওই শিশুটি শারীরিক অসুস্থতার কারণে পেটের ব্যথার ওষুধ ক্রয় করতে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে গমন করে। ওই ফার্মেসির মালিক ও ব্যবসায়ী সিয়াম শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে কৌশলে এবং চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে দোকানের ভেতরের একটি গোপন অংশে নিয়ে যান।
দোকানের ভেতরে নিয়ে অভিযুক্ত সিয়াম শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের ঘটনা সম্পন্ন করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ফার্মেসি থেকে বের করে দেন।
দোকান থেকে বের হয়ে ভুক্তভোগী শিশুটি লোকলজ্জা ও ভয় উপেক্ষা করে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিজের পরিচিত ব্যক্তিবর্গকে ধর্ষণের সম্পূর্ণ বিষয়টি অবহিত করে। শিশুটির মুখে এই ঘটনা শোনার পর কুমকুমারী বাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সিয়ামকে উক্ত ফার্মেসি থেকেই অবরুদ্ধ করে আটক করেন।
আটক করার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত সিয়ামের ওপর চড়াও হন এবং তাকে ব্যাপক গণধোলাই প্রদান করেন। গণধোলাইয়ের একপর্যায়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা আইন নিজেদের হাতে সম্পূর্ণভাবে তুলে না নিয়ে বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে মুঠোফোনের মাধ্যমে অবহিত করেন।
টেলিফোনে ঘটনার বিবরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করার পর, আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে গণধোলাইয়ের শিকার এবং গুরুতর আহত অভিযুক্ত সিয়ামকে নিজেদের হেফাজতে গ্রহণ করেন এবং তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা গণমাধ্যমের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে শিশু ধর্ষণের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ বাহিনী পাঠানো নিশ্চিত করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত সিয়ামকে পুলিশ আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় জনগণের গণধোলাইয়ের কারণে অভিযুক্ত সিয়াম শারীরিকভাবে বেশ জখম ও আহত হয়েছিলেন। এই কারণে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বা স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে পুলিশি পাহারায় তার প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্য পরিচালনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে যথাযথ আইনি ও চিকিৎসাগত প্রসিডিউরের অংশ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে শিশুটির প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য জরুরি সেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এবং আইনগত বিধিমালা অনুসরণ করে অপরাধীর বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পুলিশ এই বিষয়ে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
| তথ্যের ক্যাটাগরি | ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও যাচাইকৃত বিবরণ |
| অপরাধের ধরণ | অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ধর্ষণ |
| ভুক্তভোগীর বয়স | ১১ বছর |
| অভিযুক্তের নাম ও বয়স | সিয়াম, বয়স ৪০ বছর |
| অভিযুক্তের পেশা | ফার্মেসি ব্যবসায়ী |
| ঘটনার স্থান | কুমকুমারী বাজার, আশুলিয়া, সাভার |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার বিকেল |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন |
| ভুক্তভোগীর অবস্থান | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ওসিসি) |
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর আওতায় এ ধরনের অপরাধকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের শিকার শিশুদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের শারীরিক সুরক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ফরেনসিক আলামত এবং ডাক্তারি পরীক্ষার প্রমাণাদি আইনগতভাবে সুরক্ষিত করা, যা আদালতে অপরাধ প্রমাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই ঘটনার ক্ষেত্রেও আশুলিয়া থানা পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগী শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের মাধ্যমে সঠিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের আইন নিজের হাতে সম্পূর্ণভাবে তুলে না নিয়ে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে অভিযুক্তকে জীবিত অবস্থায় আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত সিয়ামকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে, যাতে ঘটনার গভীরে গিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য উন্মোচন করা যায়। অপরাধের প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ শুরু করেছেন।
মন্তব্য