আর্সেনাল প্রিমিয়ার লিগে তাদের সর্বশেষ শিরোপার পর ৮,০৬০ দিন অতিক্রম করার পর আবারও ইংলিশ শীর্ষ লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ক্লাবটি একাধিক ব্যবস্থাপনা ও কোচিং পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। আর্সেন ওয়েঙ্গার দীর্ঘ সময় শিরোপার জন্য লড়াই করার পর দায়িত্ব ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে উনাই এমেরিও দায়িত্ব গ্রহণ করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়নি। এরপর মিকেল আরতেতার অধীনে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আর্সেনাল টানা তিন মৌসুম প্রিমিয়ার লিগে রানার্স-আপ হওয়ার পর শিরোপা জয়ের ধারায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে। বোর্নমাউথে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ের পর আর্সেনালের শিরোপা নিশ্চিত হয়, যা ক্লাবটির জন্য ২২ বছর পর লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের ঘটনা।
ম্যানচেস্টার সিটি পেপ গার্দিওলার অধীনে ১০ মৌসুমে ৬টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছে। এই সময়কালে দলটি ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতায় আধিপত্য বজায় রাখে এবং একাধিক মৌসুমে শীর্ষ অবস্থানে থাকে। তবে বর্তমান মৌসুমে তারা শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি, ফলে আর্সেনালের শিরোপা নিশ্চিত হয়।
আর্সেনালের এই অর্জন ২০০৪ সালের “ইনভিন্সিবলস” মৌসুমের পর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্লাবটির দীর্ঘ শিরোপা-অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এটি সাম্প্রতিক ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যান্য দীর্ঘ বিরতির পর শিরোপা জয়ের ঘটনার সঙ্গে তুলনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান মৌসুমে আর্সেনালের সামনে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে একটি ম্যাচ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্যারিস সাঁ জার্মেইনের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে, যা ৩০ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
মিকেল আরতেতার অধীনে আর্সেনাল দলটি কৌশলগতভাবে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণ সংগঠন এবং সেট পিস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কৌশলগত কাঠামোর মাধ্যমে দলটি প্রতিযোগিতামূলক মৌসুমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
মৌসুমভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| হজম করা গোল | ২৬ |
| ক্লিন শিট | ১৯ |
| ১–০ ব্যবধানে জয় | ৮ |
| সেট পিস থেকে গোল | ২৪ |
| কর্নার থেকে গোল | ১৮ |
| মোট সেট পিস গোল (সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে) | ৩৫ |
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্সেনাল এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সর্বনিম্ন ২৬টি গোল হজম করেছে। একই সঙ্গে দলটি সর্বাধিক ১৯টি ক্লিন শিট অর্জন করেছে এবং ১–০ ব্যবধানে সর্বোচ্চ ৮টি জয় পেয়েছে। সেট পিস থেকে ২৪টি এবং কর্নার থেকে ১৮টি গোল এসেছে, যা দলটির আক্রমণ পরিকল্পনায় এই উপাদানগুলোর গুরুত্ব নির্দেশ করে।
ইউরোপীয় শীর্ষ পর্যায়ে ২০১১–১২ মৌসুমের পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সেট পিস থেকে ৩৫ গোলের বেশি অর্জনের ক্ষেত্রে আর্সেনাল স্থান পেয়েছে শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে। এই তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদ ২০১২–১৩ মৌসুমে ৩৮টি এবং আতলেতিকো মাদ্রিদ ২০১৪–১৫ মৌসুমে ৩৭টি সেট পিস গোল করেছে।
ফুটবল প্রতিযোগিতার ধারায় বিভিন্ন সময় আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক কৌশল প্রাধান্য পায়। আর্সেনাল এই মৌসুমে রক্ষণ সংগঠন ও সেট পিস কার্যকারিতাকে কেন্দ্র করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করেছে। এই কৌশলগত কাঠামোর মাধ্যমে দলটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
