গাজায় ঈদের দ্বিতীয় দিন ইসরাইলি হামলায় ২২ ফিলিস্তিনি নিহত

পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও শান্তি ফিরেনি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায়। শনিবার ভোর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ গভর্নরেটে এসব হামলা চালানো হয়।

গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, খান ইউনিসের পশ্চিমাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে গোলাবর্ষণ চালালে একই পরিবারের চার সদস্যসহ অন্তত ১২ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জনের বেশি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত এই হামলায় ২২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এএফপি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৭ মে থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা সংগ্রহের সময় ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারানো ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে। এ সময় আহত হয়েছেন ৫৮০ জনেরও বেশি এবং এখনো ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এর আগে ঈদের দিন শুক্রবার সকাল থেকে ইসরাইলি বাহিনীর একের পর এক হামলায় গাজায় আরও ৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যেখানে ঈদের সকাল হওয়ার কথা ছিল আনন্দ-উৎসবে মুখর, সেখানে রক্তাক্ত হলো গাজার রাস্তাঘাট। খান ইউনিসসহ উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

ঈদের দিনেও গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি। ফলে চরম মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এএফপি জানায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের ‘গণহত্যামূলক অভিযান’-এর পর থেকে এটি গাজার বাসিন্দাদের চতুর্থ ঈদ, যেখানে সহিংসতা থামেনি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪,৭০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। খাদ্যাভাব ও অবরুদ্ধ অবস্থায় গাজা বর্তমানে ‘দুর্ভিক্ষপীড়িত এবং মানব বসবাসের অযোগ্য’ এলাকায় পরিণত হয়েছে।