পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বেসরকারি ও সরকারি খাতের কর্মীদের দৈনিক কর্মঘণ্টা হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয় (MOHRE) দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে, যা মূলত কর্মীদের স্বাস্থ্যের উন্নতি, পরিবারিক সময় বৃদ্ধি এবং ইবাদতের সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজের ধরন ও ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী নমনীয় (ফ্লেক্সিবল) বা দূরবর্তী (রিমোট) কর্মপদ্ধতি চালু করতে পারবে। এতে কর্মীরা অফিসের বাইরে থেকেও কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং নিজেদের সময় অনুযায়ী কাজের পরিকল্পনা করতে পারবেন।
সাধারণত সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেসরকারি খাতের কর্মীরা প্রতিদিন ৮–৯ ঘণ্টা কাজ করেন। তবে রমজান মাসে দৈনিক কর্মঘণ্টা দুই ঘণ্টা কমিয়ে ৬–৭ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে এবং কর্মীরা অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাবেন।
সরকারি খাতেও কর্মঘণ্টা হ্রাস করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি নিম্নরূপ:
| দিন | অফিস সময় |
|---|---|
| সোমবার–বৃহস্পতিবার | সকাল ৯:০০ – দুপুর ২:৩০ |
| শুক্রবার | সকাল ৯:০০ – দুপুর ১২:০০ |
| শনিবার–রবিবার | সরকারি ছুটি (সাধারণত) |
তবে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, যেসব পদে কাজের ধরন ভিন্ন বা জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীরা রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সময়সূচি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় বাসিন্দারা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। এছাড়া ইবাদত, আত্মচিন্তা এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্যও পর্যাপ্ত সময় থাকবে। মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজান মাস একটি নতুন সূচনার সুযোগ দেয়, যা কর্মীদের সময়সূচী পরিকল্পনা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, প্রথম কয়েকদিন কম কর্মঘণ্টা কিছুটা কষ্টসাধ্য হতে পারে, তবে একবার স্বাভাবিক হয়ে গেলে এটি কর্মীদের মনোযোগ, উৎপাদনশীলতা এবং কাজের উদ্দেশ্যপূর্ণতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
সংক্ষেপে, এই কর্মঘণ্টা হ্রাস কর্মীদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনকে আরও সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে।
