রাজধানীর আদাবর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আবু সাইদ রয়েছেন, যিনি ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’-এর দ্বিতীয় শীর্ষ (সেকেন্ড ইন কমান্ড) হিসেবে পরিচিত বলে র্যাব জানিয়েছে। আজ বুধবার র্যাব-২ থেকে পাঠানো এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, আজ বেলা ৩টায় কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত সংবাদ ব্রিফিং করা হবে।
পুলিশ ও র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয় এবং একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম এবং উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ আহত হন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর–আদাবর এলাকায় সক্রিয় ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’-এর সদস্য। র্যাব জানায়, বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আবু সাইদসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। এতে দুইজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনসহ মোট চারজনকে আটক করে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, আহত দুই পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | র্যাব-২ |
| গ্রেপ্তার সংখ্যা | ৬ জন |
| গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পরিচিত সদস্য | আবু সাইদ (সেকেন্ড ইন কমান্ড) |
| হামলার স্থান | শেখেরটেক, আদাবর |
| আহত পুলিশ সদস্য | ওসি জাহিদুল ইসলাম, এসআই তরুণ |
| আটক মোট ব্যক্তি (ঘটনাস্থল) | ৪ জন |
| অতিরিক্ত আহত | ২ জন ছিনতাইকারী (গুলিবিদ্ধ) |
| ঘটনার ধরণ | ছিনতাই ও পুলিশের ওপর হামলা |
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, এই ঘটনায় জড়িতরা ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’-এর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত। এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন, যার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কুপিয়ে জখম এবং হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধী চক্রের সদস্যরা পূর্বে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর জন্য হাতের কবজি কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন, যার কারণে স্থানীয়ভাবে গ্রুপটি ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’ নামে পরিচিতি পায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনোয়ার হোসেন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও সংগঠনটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং এটি বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে মোহাম্মদপুর–আদাবর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অর্ধশতাধিক অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৭টি বড় গ্রুপ নিয়মিতভাবে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
> পরীক্ষা উপলক্ষে তুরস্কে বড় পর্দায় খেলা দেখানো বন্ধ
> পাওনা টাকা চাওয়ায় প্রবাসীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
> চাঁদা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বাকে মারধরের অভিযোগে আদালতে মামলা
> মার্কিন সাহায্য ছাড়া কি রক্ষা পাবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব?
> ডিএমপির বিশেষ অভিযানে মুগদায় গ্রেপ্তার ১৫ জন
> নাটোরে নিজ শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় নবদম্পতির মরদেহ
> নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
> মার্কিন প্রেসিডেন্ট মরিয়া হয়ে চুক্তি করেছেন দাবি খামেনির
> হাম পরিস্থিতি: শিশু মৃত্যু উদ্বেগ বাড়ছে
> মার্কিন সাহায্য ছাড়া কি রক্ষা পাবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব?
> কারওয়ান বাজার ক্যামেরা গুজব খণ্ডন
> সাকলায়েনের অবসর সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক
> সিলেটে হাম-নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বাড়ছে উদ্বেগ
> মার্কিন প্রেসিডেন্ট মরিয়া হয়ে চুক্তি করেছেন দাবি খামেনির
> নজরুল বর্ষ উদ্বোধন সাময়িকভাবে স্থগিত
> মহিউদ্দিন আহমদের জীবন ও অবদান
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য