আজকের বৈদেশিক মুদ্রার হার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতিদিনের মতোই ১৭ মে ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে এই হার নির্ধারিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং চাহিদা–সরবরাহ পরিস্থিতিও বিনিময় হারে প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজ যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য সমান রয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। ইউরোপীয় ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয় মূল্য ১৪২ টাকা ৬৯ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১৪২ টাকা ৭২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ডসহ অন্যান্য মুদ্রার ক্ষেত্রেও সামান্য পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে, যা বৈদেশিক বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামারই প্রতিফলন।

বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থান দেশের আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়তা করছে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ অব্যাহত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি বজায় রয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও পণ্যমূল্যের পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এই হার কিছুটা ওঠানামা করতে পারে।

নিচে ১৭ মে ২০২৬ তারিখের বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার তুলে ধরা হলো—

মুদ্রাক্রয় মূল্য (টাকা)বিক্রয় মূল্য (টাকা)
ইউএস ডলার১২২.৭৫১২২.৭৫
ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৩.৫১১৬৩.৬১
ইউরো১৪২.৬৯১৪২.৭২
জাপানি ইয়েন০.৭৭০.৭৭
অস্ট্রেলীয় ডলার৮৭.৭৪৮৭.৭৭
সিঙ্গাপুর ডলার৯৬.৪১৯৬.৪৭
কানাডীয় ডলার৮৯.২৭৮৯.২৭
ভারতীয় রুপি১.২৮১.২৮
সৌদি রিয়াল৩২.৫৫৩২.৫৬

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে বড় ধরনের ভারসাম্য তৈরি করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা থেকে আসা রেমিট্যান্স স্থানীয় মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। এছাড়া আমদানি নির্ভর খাতগুলোতে মূল্য নির্ধারণেও এই বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার হার স্থিতিশীল রাখতে হলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় আরও উৎসাহিত করা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক সুদের হারের পরিবর্তনও ভবিষ্যতে স্থানীয় মুদ্রা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

সার্বিকভাবে ১৭ মে ২০২৬ তারিখের মুদ্রা বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।