খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

দীর্ঘ ১৫ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ বিশিষ্ট এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার সাইফ হাসানের উইকেট হারিয়ে দল কিছুটা চাপে পড়লেও, পরবর্তীতে সেই ধাক্কা কাটিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শন করেছে স্বাগতিকরা। ইনিংসের শুরুর দিকে নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার হাত থেকে বেঁচে গিয়ে নতুন জীবন লাভ করেন। এরপর তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোরালো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে বাংলাদেশ। প্রথম ১০ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে ১ উইকেট হারিয়ে দলের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬২ রান।
দুই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১১ সালের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে। এই ম্যাচের পূর্ব পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দুই দল সর্বমোট ২২ বার একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ দল কেবল একটি মাত্র ম্যাচে জয়ী হতে পেরেছিল। ফলে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন এই দলটির জন্য বর্তমান সিরিজটি অত্যন্ত প্রতীক্ষিত ও তাৎপর্যপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের কন্ডিশনের সুবিধা নিতে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল তিনজন পেসার, তিনজন স্পিনার, পাঁচজন নিয়মিত ব্যাটার এবং দুইজন অলরাউন্ডার নিয়ে তাদের চূড়ান্ত একাদশ গঠন করেছে।
আজ মঙ্গলবার ম্যাচের শুরুতে টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংসের সূচনা করতে মাঠে নামেন তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসান। অস্ট্রেলীয় বোলার নাথান এলিসের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে ছিল, যেটিকে চমৎকার শটের মাধ্যমে চার মেরে সাইফ হাসান দলের রানের খাতা খোলেন। তবে ঠিক তার পরের বলটি কিছুটা ভেতরের দিকে চলে আসে। সাইফ হাসান শট খেলার চেষ্টা করলেও বলের সাথে ব্যাটের টাইমিং নিখুঁত হয়নি। ফলে বলটি ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডার মার্নাস লাবুশেনের চমৎকার ক্যাচে পরিণত হয়। আউট হওয়ার পূর্বে সাইফ হাসান ৫টি বল মোকাবেলা করে ১টি চারের সাহায্যে ৫ রান সংগ্রহ করেন।
প্রথম ১০ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের ব্যাটিং ও উইকেট পতনের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিচে ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ব্যাটারের নাম | আউটের ধরন ও ফিল্ডার/বোলার | বলের মুখোমুখি | সংগৃহীত রান |
| সাইফ হাসান | ক্যাচ: মার্নাস লাবুশেন, বোলার: নাথান এলিস | ৫ | ৫ |
| তামিম ইকবাল | অপরাজিত | ২৫ | ৩১ |
| নাজমুল হোসেন শান্ত | অপরাজিত | ৩০ | ২৫ |
| সর্বমোট দলীয় রান | ১ উইকেটের বিনিময়ে (১০ ওভার) | ৬০ | ৬২ |
ওপেনার সাইফ হাসানের দ্রুত বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি বোলার নাথান এলিসের মুখোমুখি হওয়া নিজের প্রথম বলেই চার মেরে ইতিবাচক শুরু করেন। তবে ঠিক তার পরের বলেই শান্ত রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন। সেখানে ফিল্ডার মার্নাস লাবুশেন বলটি হাতে নিলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। এই ক্যাচ মিসের কল্যাণে শান্ত নতুন জীবন লাভ করেন।
প্রাথমিক এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত জুটি পিচে থিতু হন এবং অস্ট্রেলীয় বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলছেন। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়া পর্যন্ত তামিম ২৫টি বল খেলে ৩১ রান করে ক্রিজে অপরাজিত রয়েছেন। অন্যদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত ৩০টি বল খেলে ২৫ রানে অপরাজিত আছেন। এই দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করছে।
মন্তব্য